ডারউইনে মিরাজের ঢাল হয়ে দাঁড়ানোর গল্প!

মিরাজ ফেরার সময় স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশ ৪১৮ রানে ৯ উইকেট, লিড ২২০ রানের। তেইশ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে আসা একটা দলের জন্য এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়, এ যেন এক অধ্যায়ের গল্প— যেখানে মিরাজ নামটাই এখন ভরসার আরেক নাম।

ডারউইনের রোদ যখন তেতে উঠছিল মারারা মাঠে, ঠিক তখনই যেন নিজের ভেতরের আগুনটা উস্কে দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কয়েকদিন আগেই  প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিং ধ্বসের মধ্যে অপরাজিত ১০৯ রানের ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, এবারের সফরে চুপচাপ থাকার পাত্র তিনি নন। সেই ইঙ্গিতটাই যেন সত্যি হয়ে ধরা দিল টেস্টের তৃতীয় দিনে।

অস্ট্রেলিয়ান পেসাররা যখন একের পর এক গোলাবর্ষণ চালাচ্ছেন, মিরাজের ব্যাট তখন ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে। মিচেল স্টার্কের সঙ্গে মাঠের মাঝে সেই ঝাঁঝালো বাক্যবিনিময়ও টলাতে পারেনি তার মনোযোগ— স্টার্ক যেন মনে করিয়ে দিতে চাইছিলেন, এটা তার নিজের উঠান, বাংলাদেশ নয়। মিরাজ জবাব দিলেন ব্যাটেই, কথায় নয়। তাসকিন আহমেদকে নিয়ে গড়া ৪৬ রানের জুটিতে ধীরে ধীরে লিড বাড়িয়ে নিয়ে গেলেন ২২০ রানে। শেষমেশ জশ হ্যাজেলউডের বলে কিপার ক্যারির হাতে ধরা পড়ার আগে যোগ করে গেলেন ক্যারিয়ারের দশম টেস্ট ফিফটি— ১৫৪ বলে ৬৫, যাতে ছিল ৫টি চার আর ১টি ছক্কার ঝলক।

বছর পাঁচেক আগে চট্টগ্রামে আট নম্বরে নেমে যে তরুণ ছেলেটা প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন, সেই তিনিই এখন দলের সহ-অধিনায়ক— অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ, চাপের মুখে আরও নির্ভার। বিদেশের মাটিতে বারবার প্রমাণ করেছেন, দলের সবচেয়ে অন্ধকার সময়েই যেন সবচেয়ে বেশি জ্বলে ওঠেন তিনি।

মিরাজ ফেরার সময় স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশ ৪১৮ রানে ৯ উইকেট, লিড ২২০ রানের। তেইশ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে আসা একটা দলের জন্য এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়, এ যেন এক অধ্যায়ের গল্প— যেখানে মিরাজ নামটাই এখন ভরসার আরেক নাম।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link