ডারউইনের রোদ যখন তেতে উঠছিল মারারা মাঠে, ঠিক তখনই যেন নিজের ভেতরের আগুনটা উস্কে দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কয়েকদিন আগেই প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিং ধ্বসের মধ্যে অপরাজিত ১০৯ রানের ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, এবারের সফরে চুপচাপ থাকার পাত্র তিনি নন। সেই ইঙ্গিতটাই যেন সত্যি হয়ে ধরা দিল টেস্টের তৃতীয় দিনে।
অস্ট্রেলিয়ান পেসাররা যখন একের পর এক গোলাবর্ষণ চালাচ্ছেন, মিরাজের ব্যাট তখন ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে। মিচেল স্টার্কের সঙ্গে মাঠের মাঝে সেই ঝাঁঝালো বাক্যবিনিময়ও টলাতে পারেনি তার মনোযোগ— স্টার্ক যেন মনে করিয়ে দিতে চাইছিলেন, এটা তার নিজের উঠান, বাংলাদেশ নয়। মিরাজ জবাব দিলেন ব্যাটেই, কথায় নয়। তাসকিন আহমেদকে নিয়ে গড়া ৪৬ রানের জুটিতে ধীরে ধীরে লিড বাড়িয়ে নিয়ে গেলেন ২২০ রানে। শেষমেশ জশ হ্যাজেলউডের বলে কিপার ক্যারির হাতে ধরা পড়ার আগে যোগ করে গেলেন ক্যারিয়ারের দশম টেস্ট ফিফটি— ১৫৪ বলে ৬৫, যাতে ছিল ৫টি চার আর ১টি ছক্কার ঝলক।
বছর পাঁচেক আগে চট্টগ্রামে আট নম্বরে নেমে যে তরুণ ছেলেটা প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন, সেই তিনিই এখন দলের সহ-অধিনায়ক— অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ, চাপের মুখে আরও নির্ভার। বিদেশের মাটিতে বারবার প্রমাণ করেছেন, দলের সবচেয়ে অন্ধকার সময়েই যেন সবচেয়ে বেশি জ্বলে ওঠেন তিনি।

মিরাজ ফেরার সময় স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশ ৪১৮ রানে ৯ উইকেট, লিড ২২০ রানের। তেইশ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে আসা একটা দলের জন্য এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়, এ যেন এক অধ্যায়ের গল্প— যেখানে মিরাজ নামটাই এখন ভরসার আরেক নাম।










