সালমানের চেষ্টা ছাপিয়ে বাংলাদেশের জয়!

বৃথা গেল সব লড়াই। পরাজয়ের গ্লানি লেপ্টে থাকল এক বীরত্বগাঁথা শতকের সাথে। সালমান আলী আঘার অসম্ভবকে জিতে নেওয়ার চেষ্টা সফল হলো না। শেষটা যে মাত্র ১১ রানটাই দেয়াল তুলে দাঁড়াল অভাবনীয় চেষ্টা আর সাফল্যের মাঝে।

বৃথা গেল সব লড়াই। পরাজয়ের গ্লানি লেপ্টে থাকল এক বীরত্বগাঁথা শতকের সাথে। সালমান আলী আঘার অসম্ভবকে জিতে নেওয়ার চেষ্টা সফল হলো না। শেষটা যে মাত্র ১১ রানটাই দেয়াল তুলে দাঁড়াল অভাবনীয় চেষ্টা আর সাফল্যের মাঝে।

২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬৭ রানে চার উইকেট হারানো একটা দল যে জিততে পারে সেটা প্রবল কল্পনাশক্তি আর বুকভরা আশা থাকা ছাড়া বোধহয় চিন্তা করা সম্ভব না। তবে বাস্তবতার দরজায় খিল দিয়ে মঞ্চে হাজির সালমান আলী আঘা। হেরে যাওয়ার আগে হারতে নেই, এই বীজমন্ত্র নিজের ভেতর বুনে নিয়েছিলেন তিনি।

শুরু এক দীর্ঘ সংগ্রাম। চলার পথে সঙ্গী হিসেবে পান সাদ মাসুদকে। ওখান থেকে ৭৯ রান আসে স্কোরবোর্ডে। এরপর সঙ্গীহারা হয়ে পড়েন, ১৬১ রানে তখন ছয় উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান। এরপরও কি জেতা সম্ভব?

হ্যাঁ, বুকের ভেতর অবাধ্য সাহস থাকলে অসাধ্যকে সাধন করা যায়। সালমান সেটাই করতে থাকলেন। তিনি জানতেন এই লড়াইটা যে একান্তই তাঁর। যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। এই গানের লাইনই হয়তো বারবার কানে বেজেছে তাঁর।

ফিফটি এসেছে, তবে কাজ তখনও বাকি। ইনিংস গড়েছেন ক্যালকুলেটর নিয়েই। একেবারে পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব কষে। যখন রানের চাপ বেড়েছে আগ্রাসী রূপে হাজির হয়েছেন, আবার ভালো বোলারকে সমীহ করেছেন। কোনো সুযোগ দিতে চাননি প্রতিপক্ষকে। ফলাফল ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতকটি বাগিয়ে নিয়েছেন।

তবে তুখোড় যোদ্ধারাও তো পরাজয় বরণ করে, ভাগ্যের ফেরে সংগ্রামী মুকুটটা নামিয়ে রাখতে হয়। দলের জয় যখন ২৯ রানের দূরত্বে, তখনই তাসকিন আহমেদের কাছে ধরাশায়ী হন সালমান। ৯৮ বলে ১০৬ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলেছেন। তবে সেটা যে কেবল আক্ষেপই বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশি বোলারদের দৃঢ়তায় অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের পূর্ণতা হয়নি ঠিকই। ফলাফলটা যে কখনো কখনো চেষ্টাকে ছাপিয়ে যেতে পারে না। যেমনটা পারেনি এই ম্যাচেও। সিরিজ বাংলাদেশ জিতে নিয়েছে ঠিকই। তবে সালমান মন জিতে নিয়েছেন।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link