বাঁজপাখি সুলভ একটা ঝাঁপ। একটা অবিশ্বাস্য থ্রো! একটা ম্যাচ উইনিং দৃশ্য! নুরুল হাসান সোহানের থ্রো থেকে স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলতে কোনোরকম ভুল করেননি লিটন কুমার দাস। করিম জানাত ফিরে গেলেন সাজঘরে, ব্যস! এখানেই নিশ্চিত হয়ে গেল বাংলোদেশের জয়। বেঁচে রইল এশিয়া কাপে সুপার ফোরে ওঠার স্বপ্ন।
শেষ তিন ওভারে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের দরকার ছিল ৩১ রান। ক্রিজে তখন করিম জানাত, আর রশিদ খান। রশিদ খান তখন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে শুরু করেছেন। ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আগমন সোহানের।

নাসুম আহমেদের করা ওভারের প্রথম বলে কাট খেলতে গিয়েছিলেন করিম জানাত। লেংথটা ছিল একটু ছোট, অফস্টাম্পের বাইরে। জায়গা করে নিয়ে জোরে শট খেললেন তিনি। বল মাটিতে পড়েই ছুটছিল এক্সট্রা কভারের পাশ দিয়ে। কিন্তু সেখানেই ঘটল নাটক।
বাংলাদেশের সেরা উইকেটরক্ষক তখন দেশের সেরা ফিল্ডার। নুরুল হাসান সোহান এবার দাঁড়িয়ে ছিলেন ভিন্ন ভূমিকায়। বিদ্যুৎগতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তিনি অবিশ্বাস্যভাবে থামিয়ে দিলেন সেই বল।

এরই মধ্যে অবশ্য অর্ধেক উইকেট পার হয়ে গিয়েছিলেন করিম জানাত। নুরুলের সেই থামানোয় হঠাৎই সিদ্ধান্ত বদলালেন রশিদ খান, জানাতকে ফেরত পাঠালেন। কিন্তু তখন আর ফেরার পথ কোথায়! নুরুল বল ধরে দ্রুত থ্রো করলেন, একদম স্টাম্পের উপর বাউন্স করে গেল লিটন দাসের হাতে। সহজেই বেল ফেলে দিলেন লিটন।
ছক্কার মতোই তীক্ষ্ণ সেই ফিল্ডিং যেন ম্যাচের গতিপথটাই ঘুরিয়ে দিল। মরিয়া হয়ে ডাইভ দিলেন জানাত, তবু বাঁচানো গেল না তার উইকেট। মাত্র ৬ রান করে ফেরত যেতে হলো। ক্রোধে, হতাশায় ভরে গেলেন তিনি—কারণ দৌড় থামিয়েছিলেন তার সতীর্থ রশিদ খান। কিন্তু বাংলাদেশ শিবিরে তখন উচ্ছ্বাস, সোহানের সেই অসাধারণ ফিল্ডিং ম্যাচ জেতানোর পার্থক্য গড়ে দেয়।

এরপরে আর ম্যাচে ফেরা হয়নি আফগানিস্তানের। ১৪৬ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান। ১৯ তম ওভারে মুস্তাফিজুর রহমান দু’টি আর শেষ ওভারে তাসকিন একটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের আট রানের জয় নিশ্চিত করেন। লিটন আর সোহান, অবধারিত ভাবেই বাংলাদেশের সেরা দুই উইকেটরক্ষক। তাঁরা এক সাথে মাঠে থাকলে কি কি হতে পারে, তারই যেন চিত্রায়ন হয়ে গেল আবুধাবির মাঠে।










