কড়া হুঁশিয়ারি বিসিবির, সাদুবাদ জানিয়েছে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো

অনৈতিকতার প্রশ্নে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের জিরো টলারেন্স। নেতৃত্ব দিচ্ছেন অ্যালেক্স মার্শাল। আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে একেবারে স্বচ্ছ ও নির্ঝঞ্ঝাট আয়োজনের উদ্দেশ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিসিবি। ফ্রাঞ্চাইজি মালিকদের সাথে বৈঠকেও বসেছেন অ্যান্টি করাপশন বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স মার্শাল। এই বৈঠককে সাদুবাদ জানিয়েছে দ্বাদশ বিপিএলের ফ্রাঞ্চাইজিগুলো।

দেশের একমাত্র ফ্রাঞ্চাইজি ভিত্তিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিপিএল, দুর্নীতির দায়ে কলুষিত হয়নি, এমন উদাহরণ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। প্রায় প্রতিটা আসরেই মাথা চাড়া দিয়েছে ফিক্সিং সন্দেহ। একাদশ আসর নিয়ে তো হয়েছে তদন্তও। কিন্তু এবার যেন এমনটি না ঘটে, সে জন্য বেশ সোচ্চার বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ও বিসিবি।

এরই ধারাবাহিকতায় ফ্রাঞ্চাইজি মালিকদের নিয়ে আলাদা কর্মশালা করেছেন আইসিসির এন্টি করাপশন ইউনিটে কাজ করা অ্যালেক্স মার্শাল। সেখানে নানাবিধ দুর্নীতি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে ফ্রাঞ্চাইজি মালিকদের। এমনকি বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ফ্রাঞ্চাইজিগুলোতে যেন কোনভাবেই জড়িত থাকতে না পারে, সে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই কর্মশালাকে বেশ ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফ্রাঞ্চাইজি কর্মকর্তা বলেন, ‘এই উদ্যোগটা বেশ ভাল। সাধারণত কিছু (ফিক্সিং/দুর্নীতি) ঘটলেই প্রথমে দায় আসে ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর উপর। এবার যেহেতু আগেভাগেই বলে দেওয়া হয়েছে, কাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে, কিভাবে এড়িয়ে যেতে হবে (ফিক্সিং প্রস্তাব), এসব বলে দেওয়া হয়েছে তা আমাদের জন্য ভাল হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্রাঞ্চাইজি মালিকদের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে একটা ফাইলও নাকি বানানো হয়েছে। এতে করে তারা (এন্টি করাপশন ইউনিট) সহজেই ধরতে পারবে কোন ফ্রাঞ্চাইজি মালিক দুর্নীতির সাথে যুক্ত কি-না। সুতরাং আমাদের উপর দায় দিয়ে দেওয়া যাবে না সহজেই। আমাদের বিষয়ে অন্তত বিসিবির কাছে স্বচ্ছ চিত্র থাকল। এটা খুব ইতিবাচক।’

শুধু যে ফ্রাঞ্চাইজিগুলোকেই সাবধান করে দেওয়া হচ্ছে বিষয়টি এমন নয়। ধারণা করা যাচ্ছে প্রতিটা দলের সাথে অন্তত চারজন করে দুর্নীতি দমন প্রতিনিধি থাকবেন। তারা হোটেল থেকে শুরু করে, ড্রেসিংরুম সবখানেই নজর রাখবেন। পাশাপাশি একটা অভিযোগ রয়েছে মিরপুর স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে।

শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আশেপাশের বহুতল ভবনে বসে জুয়াড়িদের আনাগোনা বেড়ে যায় বিপিএল এলেই। সে ধরণের পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্টেডিয়ামের চারিপাশে থাকা বহুতল ভবনগুলোকেও নজরদারির আওতায় আনতে চলেছে বিসিবির এন্টি করাপশন ইউনিট।

মোদ্দাকথা এবারের বিপিএলকে একেবারে কালিমামুক্ত রাখতে বিসিবি বদ্ধপরিকর। তাদের এমন কড়াকড়ি পদক্ষেপগুলো ফ্রাঞ্চাইজি মালিকরাও সাদরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। নিরাপত্তা আর নজরদারির এই বলয় চিড়ে আবারও ফিক্সিং কেলেঙ্কারির অভিযোগ বিপিএলকে ঘিরে ধরবে কি-না, সেটাই এখন দেখার পালা।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link