হেডের ক্যাচ ফেলে দেওয়া ঘোরতর অন্যায়

৯৯ রানে তখন দাঁড়িয়ে ট্রাভিস হেড। নিজের চেনা উঠানে তখন তিনি অপেক্ষমান আরও এক সেঞ্চুরির জন্য। ব্যাটের আলতো খোঁচায় ক্যাচ উঠল।

৯৯ রানে তখন দাঁড়িয়ে ট্রাভিস হেড। নিজের চেনা উঠানে তখন তিনি অপেক্ষমান আরও এক সেঞ্চুরির জন্য। ব্যাটের আলতো খোঁচায় ক্যাচ উঠল। বল চলে গেল গালি অঞ্চলে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা হ্যারি ব্রুক করে বসলেন মস্তবড় ভুল। ফেলে দিলেন ক্যাচ। এরপর আর হেডকে থামায় কে। ঘরের দর্শকদের উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে, বাউন্ডারিতে পূর্ণ করেন তিনি ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি।

অ্যাডিলেডে জন্ম হেডের। অ্যাডিলেড ওভাল তার কাছে তাই এক পরম আদুরে। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি চতুর্থ সেঞ্চুরির উন্মাদনায় নিজে ভাসলেন, স্রোতকে ছড়িয়ে দিলেন গ্যালারিতে। ইংল্যান্ডকে শাসন করে গেলেন নিজের ব্যাটের প্রতিটি স্ট্রোকে। চলমান অ্যাশেজ সিরিজে এটি তার দ্বিতীয় শতক।

পার্থের দ্বিতীয় ইনিংসে তার খেলা ১২৩ রানের ইনিংসটিই অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতিয়েছিল। তৃতীয় টেস্টে এসেও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে তিনি উদ্ধত। তার ওই ক্যাচটা যে ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা কিছুক্ষণ বাদেই টের পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। ১৪৬ বলে ১০৩ রানে পৌছান ট্রাভিস হেড, বাউন্ডারির কল্যাণে।

এরপর তিনি অ্যাডিলেড টেস্টের তৃতীয় দিন শেষ করেছেন ১৯৬ বলে ১৪২ রানে অপরাজিত থেকে। অস্ট্রেলিয়ার লিড তখন বেড়ে ৩৫৬। অথচ, ২৮৭ রানে পঞ্চম উইকেট হিসেবে পতন ঘটতে পারত ট্রাভিস হেডের। দিনের শেষভাগে আরেকটি উইকেট অন্তত পেয়েই যেতেন ইংলিশ বোলাররা। তাতে করে চতুর্থ দিনের সকালবেলায় ভীষণ চাপ মাথায় নিয়ে বাইশ গজে হাজির হতেন অজি ব্যাটাররা।

সেই স্নায়ুচাপের মাত্রা বাড়িয়ে, ইংল্যান্ড অন্তত সৃষ্টি করতে পারত জয়ের আশা। কিন্তু হেড সম্ভবত আর কোন পথই খোলা রাখবেন না। চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনের পুরোটাই ব্যাট করতে চাইবে অস্ট্রেলিয়া। ট্রাভিস হেডের ব্যাটে ভর দিয়ে সংগ্রহ অনায়াসে ছাপিয়ে যাবে ৪০০ রানের গণ্ডি। টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ৪০০ ছাড়ানো যেকোন লক্ষ্য, অজেয় এক পর্বত শৃঙ্গ। অতএব এক হেডের জন্যই যেন লেখা হচ্ছে নতুন এক ইংরেজ বধের কাব্য।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link