বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতির পদটা যেন এক অদ্ভুত চেয়ার। যেখানে বসা মাত্রই সবাই স্বেচ্ছাচারিতা করতে শুরু করেন। নিয়মের তোয়াক্কা না করেই সভাপতিরা সমস্ত ‘পাওয়ার’ নিজেদের হাতে মুষ্টিবদ্ধ করে রাখতে চান। আপতকালীন সময়েও দায়িত্ব ছাড়তে যেন তাদের ভীষণ অনীহা।
এই যেমন আমিনুল ইসলাম বুলবুল, বিসিবির বর্তমান বস- তিনি পারিবারিক কাজে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন। কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে ঈদের পরই তিনি দেশে ফিরবেন। একেবারে পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ অভিভাবক। এই পুরোটা সময়জুড়ে তিনি অনলাইনে যাবতীয় বিষয়াদি তদারকি করছেন।
এমনকি কোন জরুরি কাগজ-পত্রে সই করার জন্য তিনি ব্যবহার করছেন ডিজিটাল স্ক্যানিং প্রক্রিয়া। তবে এসব দায়িত্বকে খুব সহজেই ‘অফলোড’ করে যেতে পারতেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বিসিবির গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, সভাপতির অবর্তমানে তার মনোনীত একজন সহ-সভাপতি পালন করতে পারবেন সভাপতির দায়িত্ব।

বিসিবির গঠনতন্ত্রের ১৪.২.২ ধারায় উল্লেখ আছে, ‘সভাপতির অনুপস্থিতে সভাপতি কর্তৃক মনোনীত যেকোনো একজন সহ-সভাপতি সভাপতির দায়িত্ব পালন করিবেন। তবে সভাপতি পদে আকস্মিক শূন্যতা সৃষ্টি হলে অথবা সভাপতি কোনো কারণে স্বীয় পদে দায়িত্ব পালনে অক্ষম বা অপারগ হলে যথানিয়মে সভাপতি নিয়োগ না হওয়া অথবা সভাপতি পুনরায় দায়িত্ব পালন আরম্ভ না করা পর্যন্ত সভাপতি কর্তৃক মনোনীত ০১ (এক) জন সহ-সভাপতি সভাপতির দায়িত্ব পালন করিতে পারিবেন।’
বিসিবির সাংগঠনিক কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করার জন্য সভাপতির স্বশরীরে উপস্থিত থাকা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে স্পষ্ট আইন থাকার পরও সেই আইনের উলঙ্ঘন করছেন সভাপতি চেয়ারে বসা প্রত্যেকেই। এর আগে নাজমুল হোসেন পাপনও একই ঘটনা মঞ্চস্থ করেছিলেন।
একজন বোর্ড সভাপতির নানা কারণে দেশের বাইরে থাকতে হতে পারে। সেজন্যই তার অবর্তমানে দায়িত্ব স্থানান্তরের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন করা রয়েছে। এমনকি বুলবুল প্রায় দেড় মাসের বেশি সময় ধরে থাকছেন দেশের বাইরে। এই দীর্ঘ সময়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা চলে আসা খুবই স্বাভাবিক। তেমনটিই ঘটছে বিসিবির অন্দরমহলে।












