পাকিস্তানে গিয়ে ঘুড়ি উড়িয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি!

লাহোরে পা রেখেই হোটেল কিংবা মাঠে নয়,  বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সোজা চলে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের ঘুড়ি উৎসবে। এই ঘুড়ির সাথেই উড়ে গেছে ক্রিকেটের বড় এক সংকট। লাহোরে অবতরণ করার পর থেকে ভীষণ ব্যস্ততায় কেটেছে বুলবুলের সময়।

লাহোরে পা রেখেই হোটেল কিংবা মাঠে নয়,  বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সোজা চলে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের ঘুড়ি উৎসবে। এই ঘুড়ির সাথেই উড়ে গেছে ক্রিকেটের বড় এক সংকট। লাহোরে অবতরণ করার পর থেকে ভীষণ ব্যস্ততায় কেটেছে বুলবুলের সময়।

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা কোন ভাবেই মন গলাতে পারেনি বিসিবির। বাংলাদেশের সমর্থনে এগিয়ে আসে পাকিস্তান। বাংলাদেশকে সমর্থন দিতে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় পিসিবি। এই ঘটনা কমবেশি সবারই জানা। তবে এর মাঝেই ত্রিমুখী বৈঠক করতে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামকে পাকিস্তানে ডাকে আইসিসি। সমাধান করতে চায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের।

শেষমেষ সমঝোতার পথ বেছে নেয় সবাই। ক্রিকেট আরও একবার জিতে যায় রাজনৈতিক দ্বন্দ ছাপিয়ে। দিনশেষে আখেরে লাভটা বাংলাদেশেরও হয়েছে। তবে এমন গুরুত্বপূর্ণ এক মিশনের আগে বিসিবি সভাপতি ছিলেন খোশ মেজাজে। পাকিস্তানে পা রেখে তিনি সর্বপ্রথম গিয়ছিলেন ঘুড়ি উৎসবে। প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন আমিনুল ইসলাম।

৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে লাহোরে পৌঁছান বিসিবি সভাপতি। শহর তখন রঙিন, উৎসবমুখর, বসন্তের ঘুড়ি উৎসব চলছে পুরোদমে। গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের কাছেই এক বিশাল হলের ছাদে আয়োজন করা হয় এই উৎসব। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি শুধু আমন্ত্রণই জানাননি, আমিনুল ইসলামকে বসান ‘চিফ গেস্ট’-এর আসনেও। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি উৎসবস্থলে গিয়ে নিজেও ঘুড়ি ওড়ান বিসিবি সভাপতি।

সাক্ষাৎকারে আমিনুল ইসলাম জানান, এই ঘুড়ি উৎসব কেবল আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; বরং সেটিই হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ক্রিকেটের মধ্যে সম্পর্ক মসৃণ করার এক কার্যকর মাধ্যম। বিভিন্ন ক্রিকেট স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা হয় অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে। তাঁর ভাষায়, চীনের ঐতিহাসিক ‘পিং পং ডিপ্লোমেসি’র মতোই লাহোরে তিনি দেখেছেন এক নতুন বাস্তবতা, ‘কাইট ডিপ্লোমেসি’।

এই বৈঠকের পরই কেটে যায় চলমান টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বড় সংকট। পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ খেলতে রাজি হয়। পাশাপাশি আইসিসি বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করে, নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশ্বকাপে না খেললেও বাংলাদেশের কোনো আর্থিক বা ক্রীড়াগত ক্ষতি হবে না। এমনকি ২০৩১ সালের আগেই বাংলাদেশে আইসিসির একটি বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে, যা হতে পারে নারী বিশ্বকাপ বা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link