এক দশক আগে, ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সাফল্য ছিল চোখে পড়ার মত। যার অন্যতম কারণ ছিল ব্যাটারদের ধারাবাহিকতা। চলতি দশকে সেখানেই বরং ধুকছে বাংলাদেশ দল। পঞ্চপান্ডবের মধ্যে চারজনই ছিলেন গত দশকের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় উপরের সারিতে।
২০১০ থেকে ২০১৯, এই সময়কালে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বাধিক রান করেছিলেন মুশফিকুর রহিম। মিস্টার ডিপেন্ডেবল তকমা এমনি এমনি আর জোটেনি তার কপালে। ৪০.৭৭ গড়ে তার ব্যাট থেকে রান এসেছে ৫১৭৮। অন্যদিকে চলতি দশকের প্রায় অর্ধেক সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর লিটন দাস ৩৩.০৮ গড়ে রান করেছেন ১৮৮৬।

গড়ের এই পার্থক্যটাই বরং বলে দিচ্ছে, বাংলাদেশ কেন বর্তমান সময়ে ওয়ানডে ফরম্যাটে ধুকছে। গত দশকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল, বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা বাংলাদেশ এই মুহূর্তে রয়েছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। যার অন্যতম কারণ ব্যাটারদের ধারাবাহিকতার অভাব।
চলতি দশকে বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার ব্যাটিং গড় ৩২.২। গত দশকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা তামিম ইকবালের ব্যাটিং গড় ছিল ৩৯.২৮। শীর্ষ দুই রান সংগ্রাহকের গড়ের পার্থক্যই দলের এমন সংকটময় পরিস্থিতির পূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। যার দায়ভার ব্যাটাররা কোনভাবেই এড়িয়ে যেতে পারেন না।

অতি দ্রুত ব্যাটাররা নিজেদের দায়িত্ব ঠিকঠাকভাবে পালন না করতে পারলে বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের পরিস্থিতি হতে পারে ভয়াবহ। বিশ্বজয়ের স্বপ্ন থেকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বনে যাবে স্বপ্ন। এমন নিদারুণ অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে নিশ্চয়ই জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও পড়তে চাইবেন না।











