দুষ্ট চক্রে আটক বাংলাদেশ, শামীমের পরিবর্তে অঙ্কন

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল একটা দুষ্ট চক্রের ভেতর আটকে গেছে। একজন আন্ডার পারফরমারের পরিবর্তে দলে নেওয়া হচ্ছে আরেক আন্ডার পারফরমারকে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল একটা দুষ্ট চক্রের ভেতর আটকে গেছে। একজন আন্ডার পারফরমারের পরিবর্তে দলে নেওয়া হচ্ছে আরেক আন্ডার পারফরমারকে। এই যেমন শামীম হোসেন পাটোয়ারির পরিবর্তে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে।

এ কথা সত্য, সাম্প্রতিক সময়ে শামীম প্রত্যাশা মাফিক পারফরম করতে পারেননি। এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতেও ফ্লপ ছিলেন শামীম। সেই ধারা অব্যাহত ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও। কিন্তু তাই বলে নিকট অতীতে ব্যাট হাতে সংগ্রাম করে যাওয়া  অঙ্কনকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা নিশ্চয়ই নয় কোন সমাধান।

এশিয়া কাপে শামীম পাঁচ ইনিংসে ব্যাট করে সর্বসাকুল্যে রান করেছিলেন ৯৭। ১১৪.১১ স্ট্রাইকরেট মোটেও শামীমের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দুই ম্যাচে শামীমের সংগ্রহ দুই রান। অতএব তিনি যে ব্যর্থ সেটা মোটা দাগে চিহ্নিত করা খুব একটা কষ্টকর নয়।

তাই বলে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সুযোগ দেওয়া সমাধান হতে পারে না। কেননা এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সে যারপরনাই ব্যর্থ অঙ্কন। পাঁচ ম্যাচ খেলেছেন অঙ্কন। বাংলাদেশ ছায়া দলের হয়ে চার ইনিংসে ব্যাট করেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। এই সময়ে তিনি রান করেছেন মাত্র ৩৬টি। সবচেয়ে দুশ্চিন্তার কারণ তার স্ট্রাইকরেট। মাত্র ৭৬.৫৯ স্ট্রাইকরেটে চলেছে তার ব্যাট।

এর আগে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট এনসিল টি-টোয়েন্টিতেও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। পাঁচ ইনিংসে ১১৬.৮৩ স্ট্রাইকরেটে স্রেফ ১১৮ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। অথচ তাকেই কি-না ভাবা হচ্ছে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের মিডল অর্ডার সমস্যার সমাধান! এক্ষেত্রে তাই প্রশ্নটা চলেই আসে ভিত্তি কি?

বছর খানেক আগে, সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) অবশ্য অঙ্কনের ব্যাট চলেছিল দুর্বার গতিতে। ১৭৪.৫৮ স্ট্রাইকরেটে তিনি রান করেছিলেন ৩১৬টি। মিডল অর্ডার ব্যাটারদের মধ্যে অন্যতম সফল ব্যাটারদের একজন ছিলেন তিনি। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই অঙ্কনের সেই পারফরমেন্স যেন মিলিয়ে গেছে হাওয়ায়। তবে কি সেই পারফরমেন্সকেই বাংলাদেশের নির্বাচকরা নিয়েছেন বিবেচনায়?

যদি গত বিপিএলই হয় প্রভাবক তবে বিপিএল পরবর্তী সময়ে কেন তাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নও চলেই আসে। একজন খেলোয়াড় ছন্দ থাকাকালীন সময়ে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ তার মেলে না। কিন্তু তিনি যখন রয়েছেন ছন্দহীন অবস্থায়, ঠিক সেই মুহূর্তে জাতীয় দলের চাপ তার উপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক কতটা যুক্তিসংগত?

অফফর্মের দুশ্চিন্তা, জাতীয় দলে খেলার চাপ- এসব মিলিয়ে তিনি দুর্ধর্ষ পারফরমেন্স করবেন, সে প্রত্যাশা করাও তো পাপ। এতে করে আখেরে আবারও সেই দুষ্ট চক্রেই ঘুরপাক খাবে বাংলাদেশ। সময়ের কাজ সময়ে করার গুরুত্ব ঠিক কতটুকু তা হয়ত বাংলাদেশ দলের নির্বাচক কিংবা টিম ম্যানেজমেন্ট এখনও আন্দাজ করতে পারেননি। তাইতো উন্নতি হয় না দেশের ক্রিকেটের, একটা বৃত্তাকার বলয়ের ভেতরই ঘুরপাক খায়, দলটা হয়ে রয় মিডিওকার।

 

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link