বিশ্বকাপের আগে দল হিসেবে বাংলাদেশের প্রমাণের শেষ সুযোগ

কার্যত আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের আর কোন টি-টোয়েন্টি সিরিজ নেই। অতএব দল হিসেবে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার আপাতত এটাই শেষ সুযোগ। 

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের রয়েছে একচ্ছত্র আধিপত্য। তবে সর্বশেষ ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য খানিকটা দুশিন্তার কারণ। সেই সাথে বাড়তি মাথাব্যথা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ পরাজয়। মোটেও সুখকর অবস্থানে নেই বাংলাদেশ দল সেটা নিশ্চিত। এমন সময়ে আইরিশদের বিপক্ষে সিরিজ বাংলাদেশের জন্য ফেরার মিশন।

এখন অবধি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ছয়টি ম্যাচেই জয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০২৩ সালে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে আয়োজিত হয়েছিল দুই দলের মধ্যকার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সেই সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেলেও, শেষ ম্যাচটিতে জয় ছিনিয়ে নেয় আয়ারল্যান্ড।

সাত উইকেটের বড় জয় আইরিশদের জন্য দারুণ অনুপ্রেরণা হিসেবেই কাজ করবে। তাছাড়া এই চট্টগ্রামের সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হওয়া বাংলাদেশকে চেপে ধরতে চাইবে পল স্টার্লিং ও তার দল। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলের মিডল অর্ডারও বেশ বড়সড় দুশ্চিন্তার কারণ। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা বাংলাদেশের অধিকাংশ পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটা সময়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডারে সাকিব আল হাসান ছিলেন অন্যতম ভরসা। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষ সর্বোচ্চ ১৪২ রান এসেছে সাকিবের ব্যাট থেকেই। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেছিলেন তামিম ইকবাল খান। আইরিশদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি তামিমের সংগ্রহ ছিল ১৩৯ রান। এই দুই ব্যাটার এখন আর নেই বাংলাদেশ দলে। অতএব নতুনদেরই এগিয়ে আসতে হবে।

কিন্তু সেজন্য কতটুকু প্রস্তুত জাকের আলী অনিকরা, তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ। আস্থাভাজন ক্রিকেটার যে এখনও কেউ হয়ে ওঠেননি। তাছাড়া বাংলাদেশের বর্তমান দলের ব্যাটিং অনেক বেশি টপ অর্ডার নির্ভর। টপ অর্ডারদের ভাল করবার তাই কোন বিকল্প নেই। কার্যত আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের আর কোন টি-টোয়েন্টি সিরিজ নেই। অতএব দল হিসেবে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার আপাতত এটাই শেষ সুযোগ।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link