বোলাররা যেন ২২ গজের চিরকালীন অবহেলা

মাঠের সীমানায় যখন বল আছড়ে পড়ে, গ্যালারির উন্মাদনা তখন সপ্তমে পৌঁছায়। কিন্তু তপ্ত দুপুরে আগুনের গোলা ছুটিয়ে যখন একজন পেসার স্টাম্প উপড়ে দেন, সেই বিধ্বংসী সুন্দরের জয়গান কি আমরা যথেষ্ট করি?

​ক্রিকেট তাত্ত্বিকভাবে ব্যাটে-বলের লড়াই হলেও, আদতে এটি যেন এক গ্ল্যামারাস ব্যাটারদেরই মঞ্চ। মাঠের সীমানায় যখন বল আছড়ে পড়ে, গ্যালারির উন্মাদনা তখন সপ্তমে পৌঁছায়। কিন্তু তপ্ত দুপুরে আগুনের গোলা ছুটিয়ে যখন একজন পেসার স্টাম্প উপড়ে দেন, সেই বিধ্বংসী সুন্দরের জয়গান কি আমরা যথেষ্ট করি? বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের প্লেয়ার অব দ্যা সিরিজ দেওয়া নিয়ে প্রশ্নটি আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

সিরিজের পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে আমরা দুই ধরনের দাপট দেখি। একদিকে তানজিদ হাসান তামিম, যার উইলো থেকে ছিটকে এসেছে তিন ম্যাচে ১৭৫ রান। গড় ছিল চোখধাঁধানো – ৮৭.৫০! ওপেনিংয়ে নেমে প্রথম ম্যাচে অল্প রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানকে মুহূর্তের জন্যও ম্যাচে ফেরার সুযোগ দেননি তিনি। আর সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে তো হাঁকিয়ে বসলেন ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক শতক।

অন্যদিকে বল হাতে অগ্নি ঝড়িয়েছেন নাহিদ রানা। তিন ম্যাচে আটটি উইকেট। প্রতি ১৮.১২ রানে একটি শিকার। আধুনিক ক্রিকেটে যেখানে বোলাররা রান আটকানোর লড়াইয়ে ক্লান্ত, সেখানে রানা ছিলেন আক্রমণাত্মক, গতিময় এবং প্রলয়ংকরী। প্রথম ম্যাচে তো একাই ধসিয়ে দিলেন পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন আপকে।

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও বল হাতে বাংলাদেশকে ম্যাচে ধরে রেখেছেন নাহিদ। নতুন বল হাতে আগের ওয়ানডেতে ম্যাচ সেরা হওয়া মায সাদাকাতকে ফিরিয়েছেন মাত্র ছয় রানেই। পরবর্তীতে গাজী গৌরী এবং আবদুল সামাদের পার্টনারশীপে পাকিস্তান আবারও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলে অনবদ্য এক ডেলিভারিতে গৌরীর উইকেট ভেঙে দেন নাহিদ।

বলাই বাহুল্য, যে ক্রিকেটে ম্যাচ সেরা কিংবা সিরিজ সেরা নির্ধারণ করেন ধারাভাষ্যকাররাই। সেখানে বাংলাদেশের আথার আলী খান কিংবা শামীম চৌধুরী সবারই মতামত ছিল তানজিদকে দেওয়ার পক্ষেই। পাকিস্তানের প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা সেখানে একাই লড়েছিলেন রানার হয়ে। তার শক্ত অবস্থানের ফলেই দুইজনকেই সিরিজ সেরা নির্বাচনে বাধ্য হয় প্যানেল। টি-স্পোর্টসের পোস্ট ম্যাচ আলোচনায় তিনি অকপটে বলেন, “কমেন্ট্রি বক্সে আমি একাই লড়াই করছিলাম নাহিদ রানার ‘প্লেয়ার অব দ্যা সিরিজ’ হওয়ার পক্ষে।”

রমিজ রাজার এই উক্তিটি কেবল রানার প্রতি সমর্থন নয়, বরং ক্রিকেটের সেই পুরনো বৈষম্যের দিকে এক তীক্ষ্ণ আঙুল নির্দেশ। যেন বোলারদের কাজ শুধু পরিশ্রম করা, আর লাইমলাইট কেড়ে নেওয়াটা কেবল ব্যাটারদেরই জন্মগত অধিকার।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link