সাম্বার জাদু ফেরাতে প্রস্তুত ব্রাজিলের রত্নভাণ্ডার

আন্তর্জাতিক ফুটবলের তীব্র প্রতিযোগিতায় ব্রাজিলকে আবার শীর্ষ সিংহাসনে ফেরাতে প্রয়োজন নতুন রক্তের, নতুন কোনো সোনালী প্রজন্মের। সেই শূন্যতা কাটিয়ে 'জোগো বোনিতো'র ঐতিহ্য আর সাম্বার জাদু ফিরিয়ে আনতে নেপথ্যে প্রস্তুত হচ্ছে একঝাঁক ক্ষুরধার তরুণ।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের তীব্র প্রতিযোগিতায় ব্রাজিলকে আবার শীর্ষ সিংহাসনে ফেরাতে প্রয়োজন নতুন রক্তের, নতুন কোনো সোনালী প্রজন্মের। সেই শূন্যতা কাটিয়ে ‘জোগো বোনিতো’র ঐতিহ্য আর সাম্বার জাদু ফিরিয়ে আনতে নেপথ্যে প্রস্তুত হচ্ছে একঝাঁক ক্ষুরধার তরুণ।

  • গ্যাব্রিয়েল মেক

মাত্র ১৬ বছরেই যার ইউরোপিয়ান ট্রান্সফার ভ্যালু আকাশছোঁয়া! চেলসি ইতোমধ্যেই তাকে দলে ভেড়াতে বড় অঙ্কের টেবিল অফার দিয়ে রেখেছে। ‘নতুন নেইমার’ খ্যাত এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের ড্রিবলিং আর ক্ষুরধার ফুটবল ভিশন নিয়ে ইউরোপ জুড়ে এখন তুঙ্গস্পর্শী হাইপ। মাঝমাঠে খেলায় ছন্দ আনা আর আক্রমণের গতিপথ ঠিক করে দেওয়ার সামর্থ্যে তাকেই ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ প্লে মেকার ভাবা হচ্ছে।

  • ভিটর রেইস 

পালমেইরাস ডিফেন্সের এই তরুণ ওয়ান্ডারকিডকে বলা হচ্ছে ইউরোপের পরবর্তী বিগ মানি ডিফেন্ডার! রিয়াল মাদ্রিদ ও আর্সেনাল সরাসরি তার কন্ট্রাক্ট ট্র্যাক করছে। ঠান্ডা মাথার বল বিল্ড আপ আর এরিয়াল ডোমিনেন্সে তিনি আধুনিক ডিফেন্ডারদের আদর্শ প্রতিচ্ছবি। থিয়াগো সিলভার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ সামলানোর ভার তার কাঁধেই উঠতে যাচ্ছে।

  • লোরান

ম্যানচেস্টার সিটির স্কাউটিং নেটওয়ার্ক যার ওপর প্রতিনিয়ত চোখ রাখছে! ফ্লামেঙ্গোর এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের ট্রানজিশন স্পিড, বাঁ পায়ের দূরপাল্লার রকেট শট আর বক্স স্প্লিটিং পাস দেওয়ার ক্ষমতা অলরেডি তাকে লাতিন আমেরিকার মোস্ট-ওয়ান্টেড প্রোস্পেক্ট বানিয়ে ফেলেছে। আক্রমণভাগে ব্রাজিলের আক্রমণাত্মক জাদুকরী ছন্দ ধরে রাখতে তিনি অন্যতম মূল কারিগর।

  • রাইয়ান

বার্সেলোনা থেকে শুরু করে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর নজর ভাস্কোর এই গোলমেশিনের ওপর। শারীরিক শক্তি ও ক্ষিপ্র গতি দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ তছনছ করার ক্ষমতার কারণে তাকে ইউরোপীয় ফুটবলের ক্লাসিক নম্বর নাইনের ভবিষ্যৎ ধরা হচ্ছে। সেলেসাওদের দীর্ঘদিন ধরে চলা বিশ্বমানের ফরোয়ার্ড সংকটের চূড়ান্ত সমাধান হতে পারেন রাইয়ান।

  • কাওয়া এলিয়াস

কোপা লিবার্তাদোরেস ও ক্লাব বিশ্বকাপে আলো ছড়িয়ে বিশ্বের বড় বড় স্কাউটদের খাতায় নাম লিখিয়েছেন ফ্লুমিনেন্সের এই তরুণ স্ট্রাইকার। ক্ষুরধার পজিশনিং আর বক্সে আধিপত্য দেখিয়ে গোল আদায় করার ক্লিনিকাল দক্ষতার কারণে ট্রান্সফার মার্কেটে তাকে নিয়ে দরকষাকষি তুঙ্গে। জাতীয় দলের হয়ে বড় মঞ্চের চাপ সামলে ম্যাচ জেতানোর মতো জাত ফিনিশার হতে যাচ্ছেন তিনি।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link