কয়েক সিরিজ ধরে একটা প্যাটার্ন স্পষ্ট হয়ে উঠছে—ভারতের ব্যাটিং অর্ডারটা যেন গড়েই উঠেছে একটা শক্ত খুঁটিকে কেন্দ্র করে, আর সেই খুঁটির নাম শুভমান গিল। বাকি সবাই সেই খুঁটির ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দেয়াল, খুঁটি নড়লেই কাঁপতে শুরু করে গোটা কাঠামো। শ্রীলঙ্কা সফরও ব্যতিক্রম হবে না বলেই ধারণা—গিলের ব্যাটের ওপর নির্ভর করেই এগোতে হবে ভারতের টপ অর্ডারকে।
গলের উইকেট শুরুতে বেশ ব্যাটিং-বান্ধব, কিন্তু মাটির নিচের শুকনো চরিত্রের কারণে ম্যাচ গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই স্পিনাররা হয়ে ওঠেন ভয়ংকর। তাই ভারতের বারবার ধসে পড়া ব্যাটিং লাইন-আপের প্রথম আর সবচেয়ে জরুরি কাজ—শুরুর সুযোগটা কাজে লাগিয়ে বড় রান তোলা, তারপর স্পিনের চোরাবালিতে টিকে থাকা। আর সেই দুই ধাপের ভিত গড়ে দিতে পারেন একজনই—অধিনায়ক গিল।

এই নির্ভরতার পেছনে যুক্তিও অসংখ্যা। গত বছর ইংল্যান্ড সফরে ৭৫৪ রান আর চার সেঞ্চুরি দিয়ে গিলই ছিলেন ভারতের অগ্রণী সেনানি, ওভালের শেষ টেস্টে প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে খেলার সেই মানসিকতা যেন বিবৃতি হয়ে গিয়েছিল গোটা দলের হয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফিফটি আর অপরাজিত ১২৯—সেই ধারাবাহিকতাও অটুট রেখেছিলেন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইডেনে ঘাড়ের চোটে ছিটকে যাওয়ার পরই যেন গোটা ছবিটা উল্টে যায়—কঠিন উইকেটে প্রথম টেস্ট হার, তারপর গোহাটিতে স্পোর্টিং পিচেও নাস্তানাবুদ। গিলহীন ভারত আর গিল-সমৃদ্ধ ভারতের মধ্যে ফারাকটা তাই শুধু পরিসংখ্যানের নয়, দলের গোটা মানসিকতার।
প্রস্তুতি ম্যাচে আঙুলের চোটের কারণে দুই দিন মাঠের বাইরে থেকেও শেষ দিনে ফিরে জয়সওয়ালের সঙ্গে ১০০ রানের জুটি গড়ে গিল যেন বার্তা দিয়ে রেখেছেন—ফিটনেস নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। স্পিনের বিপক্ষে নিজের দুর্বলতাও ঢের কমিয়েছেন তিনি।

তাহলে হিসেবটা দাঁড়ায় এমন—শ্রীলঙ্কার স্পিন-জালে ভারতের টপ অর্ডার টিকে থাকবে কি না, দল বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষ চারে ওঠার স্বপ্ন দেখবে কি না, এমনকি ধসে পড়া ব্যাটিং লাইন-আপ ঘুরে দাঁড়াবে কি না—সবকিছুর উত্তর লুকিয়ে আছে একটাই জায়গায়, শুভমান গিলের ব্যাটের ডগায়। অধিনায়ক নিজে স্থির থাকলে দল দাঁড়ায়, তিনি টলে গেলে গোটা কাঠামোই নড়ে ওঠে। গল টেস্টের প্রথম সকালেই তাই আসল প্রশ্নটা উঁকি দেবে—গিল কি পারবেন নিজের কাঁধে গোটা দলের ভার তুলে নিতে?











