মেহেদীর ম্যাজিকের দেখা মিলবে ব্যাটিংয়েও!

উডের কাছ থেকে প্রাপ্ত দীক্ষা আর ভুল শুধরে নেওয়া মাহেদী নিশ্চয়ই এশিয়া কাপে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ অবদান রাখতে চাইবেন, ব্যাট আর বলে।

শেখ মেহেদীর বলে বোল্ড হয়ে ক্ষিপ্ত নাজমুল হোসেন শান্ত। সৌম্য সরকার তো সুইপ করতে গিয়ে বলের ফ্লাইট মিস করলেন। এই বলগুলোই বরং আশার সঞ্চার ঘটাচ্ছে। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের স্পিন ডিপার্টমেন্টের নেতা যে শেখ মেহেদী।

স্বীকৃত তিন স্পিনার নিয়ে এশিয়া কাপের স্কোয়াড সাজিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও শামীম হোসেন পাটোয়ারি, সাইফ হাসানরা টুকটাক হাত ঘোরাতে জানেন। বিপদের মুহূর্তে ওভারের ঘাটতি পুষিয়ে দিতে পারবেন। কিন্তু বাংলাদেশের মূল পরিকল্পনায় স্পিনার হিসেবে বাড়তি দায়িত্ব থাকবে শেখ মেহেদীর উপর।

নতুন বলে ইনিংস শুরু, আবার স্লগ ওভারে বোলিং করবার দৃঢ়তা- এই দুইয়ের মিশেলে মেহেদী বেশ কার্যকর একজন বোলার। তার বেশ আঁটসাঁট লাইনলেন্থে ব্যাটারকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারেন। তাতে রানের চাকা শুকোয়, ব্যাটার মেজাজ হারিয়ে উইকেটের পরিণত হয়। মাহেদীর এই গুণগুলোই কাজে লাগাতে চাইবে বাংলাদেশ দল।

তবে বোলিংই তো শেষ কথা নয়। মেহেদীকে যে বিবেচনা করা হয়ে একজন অলরাউন্ডার হিসেবে। তার ব্যাটিংটাও বাংলাদেশের জন্যে সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পাওয়ার হিটিং কোচ জুলিয়ান উডের ক্লাসে নিয়মিত দেখা গেছে তাকে। মাহেদী ব্যাটিং শৈলী খুব একটা ভয় ধরায় না। বেশ সাদামাটা একজন ব্যাটার মনে হয় তাকে। তাছাড়া মাঝে মধ্যে তিনি দারুণ সব ইনিংস খেলেন বটে, তবে ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে।

সেই সাথে বড় শট খেলার দক্ষতার ঘাটতিও রয়েছে তার মধ্যে। সে কারণেই সম্ভবত উডের ক্লাসের নিয়মিত ছাত্র ছিলেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ইউটিলিটি ক্রিকেটারের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। ব্যাটিংটা আরেকটু শাণিত করতে পারলেন মাহেদী অন্তত টি-টোয়েন্টিতে হতে পারবেন বাংলাদেশের আস্থার জায়গা।

ঠিক সে কারণেই সিলেটে চলমান স্কিল ডেভলপমেন্ট ক্যাম্পে মেহেদীকে দেখা গেছে ব্যাটিংকে অধিক প্রাধান্য দিতে। এমনকি দলের কোচিং প্যানেলও তার ব্যাটিং স্কিলের উন্নতির রাস্তা করে দিয়েছেন। উডের কাছ থেকে প্রাপ্ত দীক্ষা আর ভুল শুধরে নেওয়া মাহেদী নিশ্চয়ই এশিয়া কাপে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ অবদান রাখতে চাইবেন, ব্যাট আর বলে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link