ভারত–পাকিস্তান এশিয়া কাপ লড়াইকে ঘিরে যে বয়কট ঝড় উঠেছে, তার হাওয়া এবার পৌঁছে গেছে ভারতীয় ড্রেসিংরুমেও। টাইমস অব ইন্ডিয়া নিশ্চিত করছে, খেলোয়াড়রা দীর্ঘ বৈঠকে বসেছিলেন প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ও সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে— যেখানে প্রশ্ন আর আলোচনার সীমানা মাঠের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছিল।
খেলোয়াড়দের বলা হয়েছে, পেশাদার থাকতে, ম্যাচকে নিয়ে অন্য দিনের মতোই ভাবতে। কিন্তু সেটা আসলেই কি সম্ভব? দলটি তরুণ, অধিকাংশই নেট সেশন শেষে ফোন হাতে নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ার ঝড় টের পান। পেশাদার হোক বা না হোক, তারা নিজেরাও কেঁপে উঠেন সেই ঝড়ে। সেই আঁচ নিয়েই আবার বয়কটের ডাক উঠেছে।
বড় ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হননি প্রধান কোচ, অধিনায়ক, কিংবা কোনো খেলোয়াড়। সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়াতে হলো সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকাটে-কে। তাঁকে প্রশ্ন করা হলো— আহত জনমতের ভার কি খেলোয়াড়দের কাঁধেও থাকবে?

তিনি বললেন, ‘এটা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। খেলোয়াড়রা জনতার মনের সঙ্গে সুর মিলিয়েই এগোবে, সে বিষয়ে আমার সন্দেহ নেই। দীর্ঘদিন এশিয়া কাপ অনিশ্চয়তায় ছিল, আমরা অপেক্ষা করেছি। কখনো ভেবেছি, হয়তো আসাই হবে না। কিন্তু জানেন তো, সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। এখন খেলোয়াড়দের দায়িত্ব, আবেগকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া।’
ডাচ কোচ পরে স্বীকার করলেন, শনিবার দলের ভেতরে আসলেই এক হাড্ডাহাড্ডি বৈঠক হয়েছে। তিনি বললেন, ‘সমর্থকদের ভাবনা আমরা বুঝি। মাঠে নামা মানেই দেশের জার্সি গায়ে চড়ানোর সুযোগ। ছেলেরা কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও যতটা সম্ভব পেশাদার আর মনোযোগী থাকবে।’
দলের অভ্যন্তরীন বৈঠকে খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্বের বার্তাই দিয়েছেন গৌতম গম্ভীর। গম্ভীর খেলোয়াড়দের বলেছেন, আবেগে ভেসে না গিয়ে শুধু ম্যাচে মন দিতে। যেটা নিজের হাতে নেই, সেটা নিয়ে ভাবতে নিষেধ করেছেন। দলের ছেলেরা কেউ বেশি আবেগী, কেউ কম, কিন্তু সবার জন্য নির্দেশনা একটাই— খেলার দিকেই থাকতে হবে শতভাগ মনোযোগ।

টেন ডেসকাটে যেন হঠাৎ আবিষ্কার করলেন— ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বল গড়ানোর আগেই শুরু হয়ে যায়। তাঁর মুখে মাঝে মাঝেই নেমে আসছিল শূন্যতা, নীরবতা দীর্ঘ হচ্ছিল অস্বস্তির মতো, প্রতিটি শব্দ যেন বিস্ফোরকের মতো মেপে বলা।
তিনি শিখলেন— ভারত-পাকিস্তান কখনো কেবল ক্রিকেট নয়, এক প্রকার যুদ্ধ, খেলাধুলার ছদ্মবেশে। তিনি বললেন, ‘কেউ কেউ মনে করেন খেলা আর রাজনীতি আলাদা হওয়া উচিত। আবার কারও মত ভিন্ন। আমরা আশা করি মাঠের পারফরম্যান্সেই দেশের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারব। সরকার এবং বিসিসিআই-এর নির্দেশনা মেনে চলাই এখন আমাদের কর্তব্য।’
ভারত–পাকিস্তান প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফের প্রজ্জ্বলিত হল। হয়তো আগের ঝলক নেই, কিন্তু আগুনের এই উত্তাপটা এবার অন্যরকম। ক্রিকেট এখানে শুধুই একটা মঞ্চ — তাঁর সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূরে ছড়িয়ে গেছে।











