বেশ দারুণ এক মিল রয়েছে বর্তমান ভারত ও পাকিস্তান দলের মধ্যে। এবারের এশিয়া কাপে দুই দলের পরিকল্পনা প্রায় একই। স্রেফ একজন জাত পেসার নিয়ে মাঠে নামছে দুই দলই। পেসার সংকটের মৃদু সমাধান আর ব্যাটিং গভীরতা বাড়াতে পাকিস্তানের পছন্দ ফাহিম আশরাফ, আর ভারতের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন শিভাম দুবে।
তাইতো ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে এই দুইজনের মধ্যে কে হতে পারেন বেশি কার্যকর, সে প্রশ্ন চলেই আসছে। এক্ষেত্রে অবশ্য ফাহিম আশরাফের সম্ভাবনা বেশি। সেটার পেছনের কারণ অবশ্যই ফাহিমের অভিজ্ঞতা। কিন্তু সেটা হতে পারে স্রেফ বোলিংয়ের ক্ষেত্রে। ব্যাটিংয়ের দিক থেকে শিভাম দুবে রয়েছেন ‘আপারহ্যান্ড’-এ।
এখন পর্যন্ত ২৬ ইনিংসে ব্যাট করেছেন শিভাম দুবে। ৩১.২৩ গড়ে ৫৩১ রান রয়েছে তার নামের পাশে। প্রায় ১৪০.১০ স্ট্রাইক রেটে চলেছে দুবের ব্যাট। দুবের তুলনায় ফাহিমের ব্যাটিং স্ট্রাইকরেটে খুব একটা খারাপ নয়, ১৩৪.৫৮। কিন্তু ফাহিমের ব্যাটিং গড় বেশ বাজে। ১৩.৩৪ গড়ে তিনি ৪৬৭ রান সংগ্র করেছেন ফাহিম। এ জন্যে তার প্রয়োজন হয়েছে ৪৫টি ইনিংস।

পার্থক্যটা স্পষ্ট। অবশ্য এর পেছনে কারণও রয়েছে। শিভাম দুবেকে মূলত ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। সেখানে ফাহিম আশরাফ বিবেচিত হন পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে। দুবেকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগেও খুব বেশি বোলিং করতে দেখা যায়। তাকে মূলত ব্যাটার হিসেবে ‘ইম্প্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়মের অধীনে ব্যবহার করতে দেখা গেছে চেন্নাই সুপার কিংসকে।
এমনকি সুরিয়াকুমার যাদব ভারত দলেও তাকে মূলত ব্যাটার হিসেবেই ব্যবহার করেন। তবে মাঝেমধ্যে কয়েকটি ওভার করিয়ে নেন শিভাম দুবেকে ব্যবহার করে। তবে পাকিস্তান দলে অবশ্য সে সুযোগ নেই। কেননা শাহীন শাহ আফ্রিদি ছাড়া দলে আর কোন পেস বোলার নেই। ভারতের আরও একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে রয়েছে হার্দিক পান্ডিয়া। তাইতো বোলার ফাহিমের দায়িত্ব একটু বেশি।
আর বল হাতে যথেষ্ট সমীহ আদায় করার মত এক চরিত্র ফাহিম আশরাফ। ৪৬ উইকেট রয়েছে তার নামের পাশে। ইকোনমি রেট ৭.৭৭। অন্যদিকে শিভাম দুবের উইকেট সংখ্যা ১৬টি। স্বাভাবিকভাবেই তার উইকেট সংখ্যা কম। কেননা তিনি খুব বেশি বোলিং করেননি। তবে এই দুইজনের বোলিং গড় ও স্ট্রাইকরেটের বিস্তর ফারাক অবশ্য নেই।

শিভামের গড় ২৮.০৬, ফাহিমের গড় ২৬.৫৬। ফাহিমের স্ট্রাইকরেট ২০.৫, শিভামের ১৮.৫। স্রেফ ইকোনমিতেই এগিয়ে ফাহিম আশরাফ। শিভাম ৯.০৭ ইকোনমিতে রান দিয়েছেন এখন পর্যন্ত। খুব বেশি পিছিয়ে না থাকলেও কঠিন পরিস্থিতিতে শিভাম মুখ থুবড়ে পড়তেই পারেন। কারণ অভিজ্ঞতার ঘাটতি। সুতরাং শিভাম দুবে ও ফাহিম আশরাফের দায়িত্ব থাকবে ভিন্ন। কার্যকারিতা প্রমাণ হবে ম্যাচের দিন।











