মাদ্রিদের দম্ভ চূর্ণ করলেন ডেকলান রাইস

কর্তোয়ার করা অতিমানবীয় সেভগুলোর কারণেই রিয়াল মাদ্রিদ এখন অবধি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায়নি। দ্বিতীয় লেগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হবে নাকি সেই বিখ্যাত ‘রেমনটাডা’? 

অবিশ্বাস্য! চোখ ধাঁধানো, প্রাণ জুড়ানো! ডেকলান রাইস দেখিয়েছেন দৃষ্টিনন্দন ফ্রিকের বিস্ময়কর মোহনীয়তা। যে মায়ার জালে জড়িয়ে গিয়ে লেজেগোবরে রিয়াল মাদ্রিদ। আর্সেনালের জন্যে রীতিমত স্বপ্নের রাত। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদ যে বরাবরই বিশাল বড় নাম।

মাত্র ১৭ মিনিটের মধ্যে তিনখানা গোল রিয়াল মাদ্রিদের জালে। এও কি সম্ভব! অতিথি হিসেবেও মাদ্রিদ যে প্রচণ্ড ভয়ংকর। সেই মাদ্রিদের জালে কি অভাবনীয় দক্ষতায় প্রথম গোলটা পাঠিয়ে দিলেন ডেকলান রাইস। একেবারে মাপা শট, তার উপর বাঁক খেয়েছে পুরো বুমেরাংয়ের মত। কিন্তু তা ফিরে আসেনি। থিবো কর্তোয়া নামক দানবীয় এক গোলরক্ষকের বিষন্নতার কারণ হয়েছে।

তেমন গোল সচারচর একবারই হয়। বিশ্বসেরা গোল কি আর চাইলেই করা যায়! হ্যাঁ, ডেকলান রাইস চাইলেই পারেন। তিনি আবারও গোল করলেন। এবারে টপ কর্ণার। কর্তোয়া নিজের পুরো শরীর হাওয়ায় ভাসিয়েও বলটির ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারলেন না।

এমিরেটস স্টেডিয়ামে রিয়ালের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন মেকশিফট স্ট্রাইকার মিকেল মেরিনো। ৩-০ গোলের বিশাল জয় আর্সেনালের। কিন্তু কাজটা কি এতটাই সহজ ছিল? কোন কোন ক্ষেত্রে হয়ত ভীষণ সহজই ছিল। গানার্সদের জন্যে কাজটা অবশ্য সহজ করে দিয়েছেন ডেভিড আলাবা আর কার্লো আনচেলত্তি।

এসিএল ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন অভিজ্ঞ আলাবা। ঠিকঠাক মানিয়ে নিতে এখনও পারছেন না ফুটবল মাঠে। তবুও তাকে দায়িত্ব দেওয়া হল বুকায়ো সাকা আর মার্টিন ওডেগার্ডের মধ্যকার চ্যালেনের বাঁধা হতে। সেই বাঁধা হতে গিয়ে তিনি মস্ত বড় ভুল করলেন। ডি বক্সের বাইরে ফাউল করলেন। সেখান থেকেই তো প্রথম গোল, তারপর এক এক করে তিনটে হজম করল রিয়াল মাদ্রিদ।

অন্যদিকে পুরো ম্যাচ জুড়ে রিয়াল মাদ্রিদকে পাওয়া গেছে হাতে গোনা দুই তিন বার। বাকিটা সময় তারা যেন দর্শক। কেবলই অবলোকন করে গেছেন আর্সেনালের দূর্দান্ত ফুটবল। কার্লো আনচেলত্তি ফুরিয়ে গেছেন, তা তিনি বারংবার প্রমাণ দিচ্ছেন। যদিও লস ব্ল্যাঙ্কোসদের ইনজুরিও বড় এক প্রতিবন্ধকতা।

তবে ব্যক্তিগত নৈপুন্যের উপর আনচেলত্তির অগাধ আস্থাই বরং মাদ্রিদকে বারবার লজ্জাজনক সব পরাজয়ের সম্মুখীন করছে। মাঠের সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে বরাবরই রিয়াল মাদ্রিদ ব্যর্থ। সেসব কিছুই আরও একবার প্রতিলক্ষিত হয়েছে আর্সেনালের বিপক্ষে।

তবে তিন কাঠির নিচে কর্তোয়া ছিলেন বলে, নতুবা লজ্জার ষোলকলা পূর্ণ হলেও হতে পারত। তাতে করে মাদ্রিদের মুখ লুকানো কঠিন হয়ে পড়ত। তার করা অতিমানবীয় সেভগুলোর কারণেই রিয়াল মাদ্রিদ এখন অবধি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায়নি। দ্বিতীয় লেগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হবে নাকি সেই বিখ্যাত ‘রেমনটাডা’?

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link