আর্জেন্টিনার শিবিরে আবারও দেখা মেলবে সেই ফিনিক্স পাখির?

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মনে যখন উন্মাদনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই ফুটবল পাড়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে এক রোমাঞ্চকর গুঞ্জন। তবে কি আবারও আকাশী-নীল জার্সিতে ফিরছেন রোজারিওর রাজপুত্র অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া?

সময়ের চাকা গড়িয়ে বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ এখন দরজায় কড়া নাড়ছে। আর মাত্র চার মাসের অপেক্ষা, এরপরই শুরু হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মাঠ কাঁপানো লড়াই। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মনে যখন উন্মাদনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই ফুটবল পাড়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে এক রোমাঞ্চকর গুঞ্জন। তবে কি আবারও আকাশী-নীল জার্সিতে ফিরছেন রোজারিওর রাজপুত্র অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া?

লিওনেল মেসি আগামী বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের প্রার্থনা – মেসিকে শেষবারের মতো আরেকটি বার বিশ্বমঞ্চে নামতে দেখা। তবে সাম্প্রতিক গুঞ্জন বলছে, মেসির সেই অনাগত সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে তাঁর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সারথি ডি মারিয়ার প্রত্যাবর্তন।

১৯৭৮ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক, কিংবদন্তি গোলরক্ষক উবালদো ফিলোলের এক ভিডিও বার্তার পরই ফুটবলঅন্দরে ডি মারিয়াকে ঘিরে তোলপাড়ের শুরুটা হয়েছে। তার দাবি, ডি মারিয়াকে ফিরিয়ে আনতে পর্দার আড়ালে কাজ করছে আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফ ও সতীর্থরা।

ফিলোল বলেন, “আমি জানতে পেরেছি, কোচিং স্টাফ এবং দলের কিছু সিনিয়র খেলোয়াড় ডি মারিয়ার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছেন। আমার মনের এক কোণ বলছে, তারা তাকে আগামী বিশ্বকাপে খেলার জন্য রাজি করিয়ে ফেলবেন।”

২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়ের পর যখন ডি মারিয়া অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ সূর্যটা হয়তো ডুবে গেছে। কিন্তু ৩৮ বছর বয়সে নিজ দেশের ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালে ফিরে তিনি যা দেখাচ্ছেন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।

ইউরোপে বেনফিকার পাঠ চুকিয়ে দেশে ফিরে ২২ ম্যাচে ১০ গোল আর ৪টি অ্যাসিস্ট। পরিসংখ্যান বলছে বয়সটা যতই বাড়ুক, ডি মারিয়া যেন এখনও চির অমলিন।

১৫ বছরের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার প্রতিটি সাফল্যের ভাগীদার এই উইঙ্গার। ১টি বিশ্বকাপ, ২টি কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা, অলিম্পিক গোল্ড – কী নেই তাঁর ঝুলিতে!

১৪৫ ম্যাচে ৩১ গোল করা এই তারকা মনে করেছিলেন আর্জেন্টিনার জার্সিটা উঠিয়ে রাখার সময় বোধহয় এসে গেছে। কিন্তু ভক্তদের ভালোবাসা আর সতীর্থদের অনুরোধে হয়তো আবারও আকাশী-নীল জার্সি গায়ে দেখা মেলবে এই নিঃশব্দ নায়কের।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link