জয়-পরাজয় পরের হিসেব। দক্ষতা-সক্ষমতাও গণনায় আসছে না। বাংলাদেশ দল যেন ভুলেই গেছে নিজেদের বেসিক। গুবলেট পাকিয়ে মাঠে করছেন যা খুশি তাই। শামীম হোসেন পাটোয়ারির অলস রানআউটই বলে দিচ্ছে, গোটা দলই ভুগছে নিদারুণ মানসিক অবসাদে।
মাত্রই উইকেট গিয়েছে। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন। হোয়াইট ওয়াশ চোখের সামনে ঝুলছে পেন্ডুলাম হয়ে। সেই মুহূর্তে অহেতুক ঝুঁকি নেওয়ার তো নেই কোন মানে। শামীম অবশ্য ঝুঁকিও নেননি। তিনি ঠিক কি করতে চেয়েছেন- তা হয়ত নিজেও ব্যাখ্যা করতে পারবেন না।
বিলাল সামির বলটা পয়েন্টে দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন নুরুল হাসান সোহান। ফিল্ডার প্রায় সেখানেই দাঁড়ানো। তার হাতের কাছেই বল। তা দেখলেন শামীম। তবুও তিনি রান নিতে উদ্ধত হলেন। তিনি জানেন, সেখানে রানের কোন সুযোগ নেই। অযথাই ক্রিজ ছেড়ে বেড়িয়ে এলেন শামীম।

এলেন তো এলেন, তার আর ফিরতে মনে চাইল না। একেবারে ভাবলেশহীন ভঙ্গিমায় তিনি ক্রিজের ফেরার একটা আবহ সৃষ্টি করতে চাইলেন। তার বাচনভঙ্গি ছিল ভীষণ দৃষ্টিকটু। তিনি যেন ভুলেই গিয়েছিলেন তিনি খেলতে নেমেছেন আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ভাবখানা এমন যে বাড়ির উঠোনে ছোটদের সাথে মজা ছলে ক্রিকেট খেলছেন।
পরিস্থিতি বেগতিক, ৭০ রানে নেই পাঁচ উইকেট। লক্ষ্যমাত্রা ২৯৪। এমন ম্যাচে, এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটিংয়ের বেসিকও যেন ভুলে গিয়েছিলেন শামীম। ব্যাটার হিসেবে, কুইক রেসপন্স করা, নিজের উইকেট বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা, পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখাতেও ছিল তার গড়িমড়ি। ভাবখানা এমন প্যাভিলিয়নে ফিরলেই যেন বাঁচি।
সামর্থ্য না কুলানো, লাগাতার পরাজয়- সবকিছু মেনে নেওয়ার মত। কিন্তু মাঠে এমন উদ্ভট কর্মকাণ্ড সন্দেহ বাড়ায়। মনে প্রশ্ন জাগায়- আসলেই কি বাংলাদেশের ব্যাটারদের বিন্দুমাত্র গেমসেন্স নেই? নাকি ভেতরে ভেতরে ঘটছে ভিন্নকিছু। দলের বেগতিক মুহূর্তে একজন ব্যাটার এতটাও নির্বিকার থাকেন কি করে?












