দুই টেস্টে ২৩ রান। ১৬ লাখ টাকা ম্যাচ ফি। মানে প্রতি রানের দাম প্রায় ৭০ হাজার টাকা! এক রকম মূল্যবানই বলা চলে এনামুল হক বিজয়ের উইলো থেকে আসা প্রতিটি রান — অবশ্য সেটা পরিসংখ্যানের চোখে। বাস্তবতা বলছে ঠিক উল্টোটা।
দুই টেস্টে স্কোরলাইন দেখুন —০, ৪, ০, ১৯। দু’টো ডাক, দুই অংকের ঘরে মাত্র একবার যেতে পেরেছেন। মনে হয় যেন বিজয় ‘রান’ করতে নেমে ‘এক্সিট প্ল্যান’ প্রস্তুত করতেই ব্যস্ত ছিলেন।
প্রথম ইনিংসে এলবিডব্লিউ, দ্বিতীয় ইনিংসে চার করে ফেরত। দ্বিতীয় টেস্টেও সেই পুরোনো ছবি—আরেকটা ডাক।
শেষ ইনিংসে কোনমতে ১৯। এই ইনিংসটাই তার একমাত্র ‘অর্জন’। এবং সম্ভবত সেটাই টেস্টে তাঁর শেষ সুযোগ ছিল।

ক্রিকেটাররা খেলে দেশের জন্য। কেউ কেউ খেলে দলের জন্য। বিজয়ের খেলা দেখলে মনে হয়, তিনি ব্যাট হাতে মাঠে নামেন সেফ সাজঘরে ফেরার জন্য। অথচ, ঘরোয়া ক্রিকেটে যে ফরম্যাটেই খেলুন সেখানে তাঁর বিস্তর রান।
কলম্বো টেস্টের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আক্ষেপ করলেন। বললেন, ‘ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে বিজয় ভাইয়ের নয় হাজার রান। অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তাঁকে বিবেচনা করতে তো আর কিছু ভাবার দরকার নেই। এটা খুবই হতাশাজনক যে সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।’
বলাই বাহুল্য, জাতীয় দলের টেস্ট একাদশে বিজয়ের জায়গাটা এখন বুকিং নয়, ক্যান্সেলেশন তালিকায়। তাঁর, সাম্প্রতিক ইনিংসগুলো দেখলে মনে হয়, প্রতিপক্ষ বোলারদের চেয়ে তার নিজের উইকেটের প্রতি আস্থা অনেক কম।

টেস্ট ম্যাচে ব্যাটিংটা ধৈর্য আর প্রক্রিয়ার খেলা। বিজয়ের ব্যাটিং দেখে মনে হয়, তিনি ব্যস্ত ছিলেন ইনিংস যত দ্রুত সম্ভব শেষ করা যায়, সেই প্রক্রিয়ায়! সেই দায় কি শুধু কেবলই প্রতিপক্ষের মারাত্মক বোলিংয়ের? না, দায়টা তাঁর ব্যাটেই গাঁথা ছিল। নিজের ভুলেই টেস্ট ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন।










