এমিলিয়ানো মার্টিনেজ মানেই গোলপোস্টের নিচে এক মনস্তাত্ত্বিক জাদুকর। যিনি শুধু হাত-পায়ের ক্ষিপ্রতায় নয়, প্রতিপক্ষের স্নায়ু গুঁড়িয়ে দিয়ে ম্যাচ জেতান। টাইব্রেকারের নার্ভ ব্রেকিং মুহূর্তে স্ট্রাইকারের চোখে চোখ রেখে এক চিলতে হাসিতে খেলা ঘুরিয়ে দেওয়া। এটাই আর্জেন্টাইন বাজপাখির চতুর কৌশল। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে কোলো মুয়ানির সেই অবিশ্বাস্য শট রুখে দিয়ে ফুটবল ইতিহাসে চিরদিনের জন্য অমর হয়ে আছেন তিনি।
পেনাল্টি শুটআউটে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার এই মাইন্ড গেম মার্টিনেজকে যেমন এনে দিয়েছে আকাশচুম্বী সাফল্য, তেমনই ঠেলে দিয়েছে বিতর্কের মুখে। কাতার বিশ্বকাপের পর তাঁর এই আচরণ থামাতে পেনাল্টির নিয়মই বদলে ফেলতে বাধ্য হয় ফিফা।
এমনকি ২০২৪ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আচরণবিধি ভাঙার দায়ে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও জুটেছিল তাঁর কপালে। কিংবদন্তি কোচ ফ্যাবিও ক্যাপেলো কিংবা সাবেক তারকা গোলরক্ষক এডউইন ভ্যান ডার সার তাঁর এই কৌশলের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

তবে লিওনেল মেসির চোখে তিনি বিশ্বের সেরা গোলকিপার। তাই সমালোচনা নিয়ে দিবুর নিজের কোনো মাথাব্যথা নেই। ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা বর্তমানে অ্যাস্টন ভিলার দুর্গ সামলাচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার প্রথম পছন্দের গোলরক্ষকও তিনি। তাঁর স্পষ্ট কথা – মাঠে বাইরের কোনো সমালোচনা তাঁকে স্পর্শ করে না, তাঁর একমাত্র লক্ষ্য দলের জয়।
মার্টিনেজের এই আগ্রাসী মনোভাব অবশ্য একদিনে তৈরি হয়নি। তাঁর শৈশবের কোচ হোর্হে পেতার মতে, ছোটবেলাতেই মাঠে প্রতিপক্ষের মনোযোগ নষ্ট করতে ওস্তাদ ছিলেন মার্টিনেজ। মাঝে মাঝে খেলা খুব সহজ মনে হলে ইচ্ছাকৃতভাবে বল হাত থেকে ছেড়ে দিতেন, যেন প্রতিপক্ষ বেশি শট নেওয়ার সুযোগ পায়!
২০২১ সালের কোপা আমেরিকা থেকে শুরু করে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ! কলম্বিয়া, নেদারল্যান্ডস কিংবা ফ্রান্সের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রতিটি ঐতিহাসিক টাইব্রেকার জয়ের নায়ক তিনি। কোটি কোটি আলবিসেলেস্তেদের বিশ্বাস, এবারও মাঠে তাঁর সেই চওড়া হাসির আড়ালে ঢাকা পড়ে যাবে প্রতিপক্ষের সব রণকৌশল। আর তাঁর বিশ্বস্ত গ্লাভসেই চড়ে আবারও বিশ্বজয়ের আনন্দে মাতবে লাতিন আমেরিকার এই পরাশক্তি।












