যুগে যুগে ফুটবলের মাঠে এমন কিছু মানুষ আসেন যারা শুধু পায়ের জাদুতে নয়, নিজের অস্তিত্ব দিয়েই আস্ত একটা খেলাকে শাসন করেন। ইনজুরির নিষ্ঠুর থাবায় বল পায়ে মাঠে জাদু দেখাতে না পারলেও, মাঠের বাইরে থেকে নিজের মায়াবী ব্যক্তিত্বে এক অন্যরকম জাদু দেখালেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের রাজপুত্র নেইমার জুনিয়র।
মাত্র দুই সপ্তাহ পর শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে পানামার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নামে ব্রাজিল। কার্লো আনচেলত্তির দলের ৬-২ গোলের বিধ্বংসী জয়ের পর মাঠের আলোর পুরোটা একাই কেড়ে নেন নেইমার। ম্যাচটিতে তিনি এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামেননি, অথচ ফাইনাল হুইসেল বাজতেই পুরো স্টেডিয়ামের চোখ আটকে গেল তাঁর দিকে। সবুজ ঘাসে পা রাখতেই যেন বদলে গেল চারপাশের চেনা আবহ।

মাঠের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে তখন এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের জন্ম হলো। পানামা দলের খেলোয়াড় আর কোচিং স্টাফরা সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে গেলেন জোগা বোনিতোর এই তারকার সাথে একটি বারের জন্যে ছবি তুলবেন বলে। নেইমারও সবাইকে আপন করে নিলেন এক চিলতে চেনা হাসিতে।
প্রতিটি প্রতিপক্ষকে হাসিমুখে জড়িয়ে ধরে, সেলফি তুলে নেইমার প্রমাণ করলেন কেন তিনি কোটি ভক্তের হৃদস্পন্দন। স্কোরবোর্ডের বিশাল ব্যবধান ছাপিয়ে এই দৃশ্যটি রূপ নিল ফুটবলীয় ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য মহাকাব্যে। নেইমারের উষ্ণ সান্নিধ্য যেন পানামাকে ভুলিয়ে দিয়েছে একটু আগে তাঁদের বিশাল পরাজয়কে।

যান্ত্রিক ফুটবলের এই যুগে নেইমারের এই ঔদার্য মনে করিয়ে দেয় যে, ফুটবল কেবল গোল আর ট্রফির হিসাব নয়; এ যেন মিলনের এক পরম ভাষা। ইনজুরি হয়তো নেইমারের পায়ের গতি কেড়ে নিতে পারে, কিন্তু বিশ্ব ফুটবলে তাঁর যে রাজকীয় প্রভাব, তা স্তব্ধ করার সাধ্য কারও নেই।










