শুরুটা যতটা আলো ঝলমলে ছিল, শেষটা ততটাই বিবর্ণ। তবুও দিনটা রিশাদ হোসেনেরই। একটা ওভার বাদ দিলে ম্যাচের সিনারিও জুড়ে ছড়ি ঘুরিয়েছে রিশাদের মায়াবী ঘূর্ণি। কিপ্টে বোলিংয়ের দিক দিয়ে দলের সেরা বোলার যে তিনি।
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) মঞ্চে ব্যাটাররা রাজ করবে, এটা এক অঘোষিত বাণী। রিশাদের রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজও সেটার ফায়দা লুটে তুলেছিল ২১৪ রান। তবে ছোট মাঠ আর ব্যাটিং স্বর্গে এই রান তাড়া করে জেতা খুব কঠিন না। পেশোয়ার জালমি তাই নির্ভার মেজাজেই ম্যাচের লাগাম টেনে নিয়েছিল শুরুতেই।
সাত ওভারে বিনা উইকেটে ৭০ রান। কপালে চিন্তার ভাঁজ পিন্ডিজ কাপ্তান মোহাম্মদ রিজওয়ানের। তখনই বল তুলে দিলেন রিশাদের হাতে। আর ওখানেই মন্থর হয়ে যায় জালমির রানের চাকা। প্রথম ওভারে খরচা করেন মোটে পাঁচ রান।

পরবর্তী দুই ওভারে নিজের স্বভাবজাত ধারটা বজায় রাখলেন। চূড়ান্ত সাফল্য পেতে অবশ্য তৃতীয় ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্তে শিকার করেছেন অ্যারন হার্ডির গুরুত্বপূর্ণ উইকেটখানা। তিন ওভার শেষে খরচার খাতায় দাঁড়ায় ১৭ রান, সাথে ঝুলিতে উইকেটও আছে।
বাকিরা যেখানে ব্যাটারদের আগ্রাসনের সামনে দাঁড়াতে ব্যর্থ, রিশাদ বুক চিতিয়ে সফলতাও ছিনিয়ে এনেছেন। তবে কাল হয়ে দাঁড়াল বোলিং কোটার শেষ ওভারটা। ১৬তম ওভারে রিশাদ বিলিয়ে দিলেন ১৮ রান। ম্যাচের দৃশ্যপটের সাথে রিশাদের বোলিং ফিগারটাও অনেকটা ধূসর হয়ে গেল। চার ওভারে শেষমেষ ৩৫ রান দিলেও উইকেট সংখ্যা একটাই থেকে যায়।
রাওয়ালপিন্ডিকে হারতে হয় পাঁচ উইকেটের ব্যবধানে। তবে গল্পটা এই পর্যন্ত শুনে রিশাদের পারফরম্যান্সকে মলিন হিসেবে আপনি ধরতেই পারেন। তবে পুরো দলের বোলিং কার্ডে চোখ রাখলে রিশাদই দিনের সেরা বোলার। বাকিরা যেখানে ওভারপ্রতি দশের উপরে রান বিলিয়েছে, সেখানে রিশাদের ইকোনমি যে মাত্র ৮.৭৫। তৃপ্তির ঢেকুর তোলা না গেলেও রিশাদের এমন পারফরম্যান্সকে দৃষ্টিকটু বলার উপায়ও যে নেই।












