নেদারল্যান্ডস হারলেও হারেননি কোডি গ্যাকপো

ফুটবল আমাদের গোলের আনন্দ শেখায়, ট্রফির স্বপ্ন দেখায়, জয়ের উল্লাসে ভাসায়। কিন্তু কখনো কখনো এই খেলাই এমন কিছু গল্প সামনে নিয়ে আসে, যা স্কোরলাইনকে ছাপিয়ে যায়। যেখানে একজন খেলোয়াড়ের পরিচয় মুছে গিয়ে সামনে আসে একজন মানুষ, একজন বাবা।

মাত্র দুদিন আগেই জীবনের সবচেয়ে বড় দু:সংবাদটি পেয়েছেন কোডি গ্যাকপো। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই হারিয়ে গেছে তার অনাগত সন্তান, এলিয়াহ রাফায়েল গ্যাকপো। যে শোক ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, সেই অসহনীয় কষ্ট বুকে নিয়েই তিনি ছিলেন জাতীয় দলের সঙ্গে।

চাইলে ক্যাম্প ছেড়ে চলে যেতে পারতেন, পরিবারকে সময় দিতে পারতেন। কেউ সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলত না। কিন্তু পরিবারের সঙ্গে আলোচনার পর গ্যাকপো বেছে নিলেন অন্য পথ। ব্যক্তিগত শোককে হৃদয়ে লুকিয়ে রেখে দেশের জার্সিটাই তুলে নিলেন কাঁধে। পাশে দাঁড়ায় ডাচ ফুটবল ফেডারেশনও।

মাঠে নামলেন। লড়লেন। দলের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিলেন। এরপর এলো সেই মুহূর্ত। বাহাত্তর মিনিটে গোলরক্ষক বুনোর সঙ্গে সংঘর্ষের ভেতরেই বল জালে জড়ালেন তিনি। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার ষষ্ঠ গোল।

স্টেডিয়াম তখন আনন্দে ফেটে পড়ছে। সতীর্থরা ছুটে এসে জড়িয়ে ধরছে তাকে। কিন্তু সেই উদযাপনের মাঝেই গ্যাকপোর চোখ ভিজে উঠল। সেটি ছিল না কোনো চাপের কান্না। সেটি ছিল এক বাবার নীরব আর্তনাদ, যিনি নিজের সবচেয়ে বড় শোক বুকে নিয়েও দায়িত্ব থেকে এক পা সরে দাঁড়াননি।

শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডস টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। স্কোরবোর্ড বলবে তারা হেরেছিল। কিন্তু এই ম্যাচের আরেকটি ইতিহাসও থেকে যাবে—একজন মানুষের অদম্য মানসিক শক্তির ইতিহাস।

গ্যাকপো হয়তো নকআউটের বাধা পেরোতে পারেননি। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে মাঠে নেমে যে সাহস, যে দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন, তা যেকোনো জয়ের চেয়েও বড়।

মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে নেদারল্যান্ডস হেরেছে। কিন্তু কোডি গ্যাকপো হারেননি। কারণ মাঠে নামার আগেই তিনি মুখোমুখি হয়েছিলেন জীবনের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষের। আর সেই লড়াই লড়ার সাহসই তাকে কোটি মানুষের চোখে করে তুলেছে এক সত্যিকারের বিজয়ী।

 

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link