১৬ বছর প্রতীক্ষার পর বিশ্বকাপে ফিরে রাউন্ড অব ৩২ থেকে চারবারের বিশ্বজয়ী জার্মানিকে বিদায় করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে। জার্মানি বধের ম্যাচে অনবদ্য পারফরম্যান্স করে আলোচনায় উঠে এসেছেন দলটির গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিয়মিত একাদশে না থাকলেও ক্লাব ফুটবলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে জাতীয় দলের আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে। তিনি জোসে লুইস চিলাভার্ত ও হুস্তো ভিয়ারের উত্তরসূরি হতে পারেন এমন সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকেই। এবার গিলের গল্পটা জেনে নেওয়া যাক।
২০০০ সালের ১১ জুন প্যারাগুয়ের সান লরেঞ্জো শহরে জন্ম গিলের। ২৬ বছর বয়সী ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার এই ফুটবলার ছোটবেলায় ফরোয়ার্ড ও মিডফিল্ডে খেললেও পরে গোলবারের নিচেই নিজের ঠিকানা খুঁজে পান। জন্মশহরের ক্লাব সান লরেঞ্জো থেকেই তাঁর ফুটবলে হাতেখড়ি। এরপর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যোগ দেন আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সান লরেঞ্জো দে আলমাগ্রোতে। সেখানেই তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার আগে জাতীয় দলের হয়ে ছয়টি ম্যাচ খেলেছেন গিল। এর মধ্যে পাঁচটি প্রীতি ম্যাচ এবং একটি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পেরুর বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে অভিষেকেই নজর কাড়েন তিনি। এর আগে দক্ষিণ আমেরিকার অনূর্ধ্ব ২০ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে প্যারাগুইয়ান অনূর্ধ্ব ২০ দলে প্রথমবারের মতো ডাক পান তিনি।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়ের তিন ম্যাচেই ছিলেন শুরুর একাদশে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪-১ গোলের পরাজয় দিয়ে শুরু হলেও পরের দুই ম্যাচে নিজেকে নতুনভাবে মেলে ধরেন। তুরস্ককে ১-০ গোলে হারানোর ম্যাচে ক্লিন শিট রাখার পর অস্ট্রেলিয়ার ফরোয়ার্ডদের সামনেও বাঁধা হয়ে দাঁড়ান তিনি। আর তাতেই সেরা আট তৃতীয় স্থানধারী দলের একটি হিসেবে নকআউটে ওঠে প্যারাগুয়ে।
৩০ জুন রাউন্ড অব ৩২-এ জার্মানির বিপক্ষে আসে গিলের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় রাত। ১২০ মিনিটে ছয়টি দুর্দান্ত সেভ করে ম্যাচকে টাইব্রেকারে নিয়ে যান তিনি। এরপর কাই হাভার্টজ ও নিক ভোল্টেমাডের শট রুখে দিয়ে জার্মানিকে চাপে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত জোনাথান তাহের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যাওয়ার পর হোসে কানালের সফল শটে ৪-৩ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে।

ফুটবল বোদ্ধাদের চোখে, বিশ্বমঞ্চে এই পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে গিল শুধু ম্যাচসেরা হননি। বরং নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন প্যারাগুয়ের ভবিষ্যৎ আস্থা হিসেবেও।










