জুসি ফুলটস বলটাকে ফাহিম আশরাফ পাঠালেন বাউন্ডারির ওপারে। সাথে করে বাউন্ডারি ছাড়া করলেন পাকিস্তানের পরাজয়ের শঙ্কাকে। ফাহিম আশরাফের দৃঢ়তায় কলিজায় যেন পানি ফিরে পেলে পাকিস্তান। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হারলেই যে দলের বিদায়ের ঘন্টা বেজে যাওয়ার উপক্রম হত।
দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। নেদারল্যান্ডস প্রথমে ব্যাটিং করে ১৪৭ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় সর্বসাকুল্যে। বিশ্বকাপে আসার আগে অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইট ওয়াশ করা পাকিস্তানের জন্য এই টার্গেটকে মামুলি তকমা দেওয়া যায় অনায়াসে। দুই উইকেটে ৯৮ রান তুলে ফেলা পাকিস্তান সেই বিশ্বাসকেই রেখেছিল অক্ষত।
কিন্তু এরপরই সেই চিরায়ত পাকিস্তানি ধ্বস। চোখের পলকে তিনটি উইকেট পড়ে যায় দুই রানের ব্যবধানে। এরপর ১১৪ রান তুলতেই পাকিস্তানের সাত ব্যাটার ফেরেন প্যাভিলিয়নে। তখন ২৩ বলে ৩৩ রানের প্রয়োজন পাকিস্তানের জয়ের জন্য। তবে উইকেট পতনের যে ধারা শুরু হয়েছিল, তাতে করে পাকিস্তানের আত্মা শুকিয়ে ততক্ষণে শুকনো কাঠ হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু ফাহিম আশরাফ ভরসার স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। প্রথমে একটু কালক্ষেপন করলেন উইকেট পতনের ধারাতে ব্যঘাত ঘটাতে। উইকেটের সাথে ধাতস্ত হয়েই ফাহিম আশরাফ বনে গেলেন ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়। শেষ দুই ওভারে পাকিস্তানের জন্য প্রয়োজন ছিল স্রেফ ২৯ রান।
ম্যাচের ১৯ তম ওভারকে তাই আক্রমণ করার বিকল্প ছিল না ফাহিমের সামনে। লোগান ভ্যান ডি বিককে রীতিমত বাউন্ডারির মূর্ছনায় তুলোধুনো করলেন ফাহিম। তিনখানা ছক্কা ও একটি চার, সাথে একটি দুই রান- ছয় বলে ফাহিম আদায় করলেন ২৪ রান। ব্যাস সমীকরণ তখন পানির থেকেও সরল।
সেই সরল সমীকরণের শেষ প্রান্তে পাকিস্তানকে নিয়ে গেলেন ফাহিম আশরাফ। শঙ্কার কালো মেঘ সরিয়ে ফাহিম বনে গেলেন ম্যাচ জয়ের নায়ক। এদিন বল হাতে দায়িত্ব পালন করতে হয়নি ফাহিমকে। তার উপর তাই স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্ব ছিল ব্যাট হাতে দলের পক্ষে অবদান রাখা। তিনি কার্পণ্য তো করলেনই না বরং দারুণ একটা জয় এনে দিলেন পাকিস্তানকে। প্রায় হারতে বসা ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপে শুভসূচনা পাকিস্তানের।












