ক্রিকেট মাঠে মহাকাব্যের অনেক গল্প রচিত হয়, কিন্তু ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী যখন তার অভিষেক ম্যাচেই বিশ্বরেকর্ড গড়ে বসেন, তখন তাকে কেবল ‘প্রতিভা’ বললে ভুল হবে। রুয়ান্ডার ক্রিকেটে যেন এক ধুমকেতুর মতো উদয় হলেন ফ্যানি উতাগুশিমানিন্দে। নাইজেরিয়ার লাগোসে ঘানার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকেই তিনি যা করলেন, তা ক্রিকেটের স্মৃতির আঙিনায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির আঙিনায় পা রাখলেন মাত্র ১৫ বছর ২২৩ দিন বয়সে। আর সেই প্রথম ম্যাচেই ৫৯ বলে তুলে নিলেন এক অনবদ্য সেঞ্চুরি। কেবল নারী ক্রিকেটার হিসেবেই নয়, নারী-পুরুষ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার অনন্য গৌরব এখন এই আফ্রিকান কিশোরীর দখলে।
উতাগুশিমানিন্দের তান্ডব কেবল বয়সের রেকর্ডেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তার অপরাজিত ১১১ রানের ইনিংসটি ভেঙে দিয়েছে নারী টি-টোয়েন্টি অভিষেকে সর্বোচ্চ রানের দীর্ঘদিনের রেকর্ড। ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি কারেন রোলটনের ৯৬ রানের সেই রেকর্ডটি টিকে ছিল প্রায় দুই দশক। সেই অসাধ্য সাধন করে দেখালেন এই বিস্ময় বালিকা।

উতাগুশিমানিন্দের এই উঠে আসার গল্পটি অনেকটা রূপকথার মতো। বিখ্যাত মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) ফাউন্ডেশনের একটি স্কুল প্রোগ্রামের মাধ্যমে ক্রিকেটের পথচলা শুরু হয়েছিল তার। পরিশ্রম আর একাগ্রতা যে বৃথা যায় না, তার প্রমাণ মিলল আন্তর্জাতিক অভিষেক ম্যাচেই।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ফ্যানি বলেন, “এটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। ১৫ বছর বয়সে অভিষেকেই এমন কিছু অর্জন করব, তা কল্পনাও করিনি। কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের ফল এই সাফল্য।”
রুয়ান্ডার কোচ লিওনার্ড নাম্বুরোও তার এই শিষ্যের সাফল্যে আবেগাপ্লুত। তার মতে, রুয়ান্ডার ক্রিকেট উন্নয়নের যে জোয়ার বইছে, ফ্যানি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

উতাগুশিমানিন্দের এই ১১২ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের ওপর ভর করে রুয়ান্ডা জয় পেয়েছে ১২২ রানের বিশাল ব্যবধানে। বিশ্ব ক্রিকেট এখন মুখিয়ে আছে এই আফ্রিকান কিশোরীর আগামী দিনের পথচলা দেখতে।











