স্পেনের সামনে হারিয়ে গেল ফ্রান্স!

স্পেনের সামনে দাঁড়িয়ে যেন নিজেদের ছায়া হয়ে রইল কিলিয়ান এমবাপ্পেরা। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে যে ফ্রান্সকে মনে হচ্ছিল সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দল, সেই দলই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এসে যেন হারিয়ে ফেলল নিজেদের পরিচয়।

স্পেনের সামনে দাঁড়িয়ে যেন নিজেদের ছায়া হয়ে রইল কিলিয়ান এমবাপ্পেরা। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে যে ফ্রান্সকে মনে হচ্ছিল সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দল, সেই দলই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এসে যেন হারিয়ে ফেলল নিজেদের পরিচয়। আর সেই সুযোগটাই দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে স্পেন। দাপুটে ফুটবল খেলে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লা রোহা।

সেমিফাইনালের আগে অনেকের চোখেই ফেবারিট ছিল দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসেদের নিয়ে তারকায় ঠাসা আক্রমণভাগ, শক্তিশালী রক্ষণ আর পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই যেন সেই আত্মবিশ্বাস উধাও হয়ে গেল। স্পেনের সংগঠিত ফুটবল, দ্রুত বল আদান-প্রদান এবং আগ্রাসী প্রেসিংয়ের সামনে কোনো সময়ই নিজেদের ছন্দে ফিরতে পারেনি ফরাসিরা।

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে স্পেন। মাঝমাঠে আধিপত্য, ডিফেন্স থেকে আক্রমণে দ্রুত রূপান্তর এবং প্রতিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করার পরিকল্পনায় তারা সফল। সেই চাপেরই ফল আসে প্রথমার্ধে। লামিনে ইয়ামালের ওপর হওয়া ফাউল থেকে পাওয়া পেনাল্টি ঠান্ডা মাথায় জালে পাঠিয়ে স্পেনকে ২২ মিনিটের মাথায় এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল।

পিছিয়ে পড়ার পরও ফ্রান্সের কাছ থেকে প্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এমবাপ্পেকে ঘিরে স্পেনের রক্ষণ ছিল প্রায় নিখুঁত। দেম্বেলে কিংবা ওলিসেও নিজেদের গতি ও সৃজনশীলতা কাজে লাগাতে পারেননি। পুরো ম্যাচেই ফরাসি আক্রমণভাগ ছিল নিষ্প্রভ।

অন্যদিকে স্পেন একবারও নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে যায়নি। বিরতির পর  ম্যাচের ৫৮ মিনিটে পেদ্রো পোরোর দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হলে কার্যত ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যায়।  শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত ফ্রান্সকে ম্যাচে ফেরার সুযোগই দেয়নি তারা।

এই জয়ে শুধু ফাইনাল নিশ্চিত করেনি স্পেন, আরও একবার প্রমাণ করেছে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে পরিপূর্ণ দলগুলোর একটি তারাই। ক্ষিপ্রতা, পরিণত সিদ্ধান্ত এবং দুর্দান্ত দলীয় সমন্বয় মিলিয়ে স্পেন এখন শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link