শেষ প্রহরী নন, সেরা প্রহরী

বিদ্যুৎগতিতে বক্স ছেড়ে বেরিয়ে এলেন। নিখুঁত টাইমিংয়ে ইন্টারসেপ্ট করলেন বল। এমবাপ্পের আক্রমণ শেষ, ফ্রান্সের স্বপ্নও থেমে গেল সেখানেই।

গোলরক্ষকদের সবাই গোললাইন আঁকড়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। উনাই সিমন তাদের দলে নন। তিনি গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে শুধু শট ঠেকান না, পুরো ডিফেন্সটাই নিয়ন্ত্রণ করেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে সেটাই আবারও দেখালেন স্পেনের এক নম্বর গোলরক্ষক।

তিনি নির্ভীক, তিনি চটপটে। চাপের মুখেও অবিশ্বাস্য শান্ত। এক পলক প্রতিপক্ষকে দেখেই মুভমেন্ট রিড করে ফেলেন। স্পেনের ফাইনালে ওঠার গল্পে তাই উনাই সিমনের নাম আসবে বারবার।

কাট টু ম্যাচের ৪৩তম মিনিট। হঠাৎ করেই স্পেনের রক্ষণ ছিড়ে বেরিয়ে গেলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। গোলের গন্ধ তখন চারদিকে। কিন্তু অপেক্ষা করেননি উনাই সিমন।

বিদ্যুৎগতিতে বক্স ছেড়ে বেরিয়ে এলেন। নিখুঁত টাইমিংয়ে ইন্টারসেপ্ট করলেন বল। এমবাপ্পের আক্রমণ শেষ, ফ্রান্সের স্বপ্নও থেমে গেল সেখানেই।

এটাই উনাই সিমনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সুইপার কিপারের কেতাবি নাম দেওয়া যেতে পারে, কিংবা বলা যেতে পারে রক্ষণের ভরসা। তবে, সব ছাপিয়ে বলা যায়, চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে চতুর গোলরক্ষক এই সিমন।

কখন সামনে ছুটে যেতে হবে, কখন ডিফেন্ডারের জায়গা পূরণ করতে হবে, আর কখন শান্ত মাথায় বল পায়ে রেখে আক্রমণ শুরু করতে হবে—সবই যেন তাঁর নখদর্পণে।

পুরো ম্যাচজুড়েই ছিলেন অবিশ্বাস্য শান্ত। চাপ যত বেড়েছে, সিমন হয়েছেন ততটাই ঠাণ্ডা মাথায় সামলেছেন পরিস্থিতি। গোলবারের বাইরে এসে অভয় দিয়েছেন।

শেষদিকে অবশ্য একবার ভুল করেছিলেন। বক্সের বাইরে এসে একটি হেডার ঠিকমতো বিচার করতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যে গোলপোস্ট ফাঁকা। কিন্তু, যেখান থেকে গোলরক্ষকরা হাল ছেড়ে দেন, সেখান থেকেই শুরু হয় সিমনের গল্প।

দ্রুত ফিরে এসে দেজিরে দুয়ের শট নিজের শরীর দিয়ে আটকে দেন। নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন। এরপর শেষ মুহূর্তে উসমান ডেম্বেলের টানা দুটি প্রচেষ্টাও নিরাপদ হাতে গ্লাভসে বন্দি করেন তিনি। ফ্রান্স আর ফিরতে পারেনি। স্পেন জিতে যায় ২-০ ব্যবধানে। আর উনাই সিমন লিখেছেন ইতিহাসও।

এই ম্যাচের আগেই টানা ৬৫০ মিনিট গোল না খেয়ে পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে গড়েছেন নতুন রেকর্ড। ভেঙেছেন ১৯৯০ বিশ্বকাপের ইতালিয়ান কিংবদন্তি ওয়াল্টার জেঙ্গার ৫১৭ মিনিটের অবিশ্বাস্য রেকর্ড। সেই রেকর্ডে ছন্দপতন ঘটিয়েছিল বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ।

সেখান থেকে কামব্যাক করলেন সেমিফাইনালে। আবারও হয়ে উঠলেন স্পেনের অদৃশ্য দেয়াল। এই বিশ্বকাপে স্পেনের রক্ষণকে এতটা দুর্ভেদ্য করে তোলার পেছনে যদি একজন মানুষের নাম বলতে হয়, তবে সেটি উনাই সিমন।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link