বিশ্বকাপজয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনের সকল আক্রমণ একে একে এসে থেমে গেছে তাঁর গ্লাভসে; ভোজিনহা যেন একাই খেলেছিলেন স্পেনের পুরো ১১ জনের বিপক্ষে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্পেনের মতো পরাশক্তিকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়ে ফুটবলবিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে প্রথমবারের মতো ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নামা পুঁচকে দল কেপ ভার্দে। আর এই রূপকথার মহানায়ক ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা।
পর্তুগিজ ভাষায় ‘ভোজিনহা’ শব্দের অর্থ হলো ‘ছোট দাদীমা’। তবে এই অদ্ভুত নামের পেছনে লুকিয়ে আছে জোসিমার ইয়োসে এভোরা দিয়াস নামের মানুষটার এক লড়াকু শৈশব আর চারপাশের মানুষের চরম উপেক্ষাকে জয় করার গল্প। সাঁও ভিনসেন্টের রাস্তায় বেড়ে ওঠা এই গোলরক্ষকের মা-বাবা দিনের পুরোটা সময়ই বলতে গেলে ব্যস্ত থাকতেন জীবিকার তাগিদে। ফলে শৈশব থেকেই নিজের দাদীমা আর দাদার স্নেহে বড় হতে থাকেন তিনি।
ছোটবেলায় এলাকার বড় ছেলেদের সাথে ফুটবল খেলার সময় হারতে কখনোই পছন্দ করতেন না এই লড়াকু বালক। মার খেয়ে যখন রেগে বাড়ি ফিরতেন, অন্য বাচ্চারা উপহাস করে বলতো, সে নিশ্চয়ই এখন তাঁর দাদীমার কাছে নালিশ করতে যাচ্ছে। খেলার সঙ্গীদের সেই উপহাসের ছলে দেওয়া নামটিই আজ বিশ্বমঞ্চে তাঁর বীরত্বের সমার্থক নাম হয়ে উঠেছে।

যদিও পেশাদার ক্যারিয়ারের শুরুতে ভোজিনদাকে ডাকা হতো জসিমার, অর্থাৎ তাঁর মূল নামে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো বিখ্যাত ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারের নাম থেকে বাবা এই নাম রেখেছিলেন। পরবর্তীতে অ্যাঙ্গোলার এক ক্লাবে একই নামের অন্য গোলরক্ষক থাকায় বিভ্রান্তি এড়াতে তিনি নিজের সেই শৈশবের ডাকনাম ‘ভোজিনহা’ ফিরিয়ে আনেন।
কেপ ভার্দের গোলের অতন্দ্র প্রহরী ইউরোপের সাইপ্রাস, স্লোভাকিয়া, মালদোভা এবং পর্তুগালের বিভিন্ন ক্লাবে বছরের পর বছর নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে এসেছেন। ২০২৪ সালে পর্তুগিজ ক্লাব শাভেস-এ যোগ দিয়ে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। ঘড়ির কাঁটায় বয়স দেখতে দেখতে ৩৮ হয়ে গেলেও সেই সময়েও ভাবেননি অবসর নেওয়ার কথা। বরং সময়ের সাথে সাথে নিজের অভিজ্ঞতা আর দক্ষতা ব্যবহার করে নিজেকে করে তুলেছেন আরও ক্ষুরধার।
যে বয়সে তিন-চারটা বিশ্বকাপ খেলা হয়ে যায় অনেক গোলরক্ষকের, সেখানে বিশ্বমঞ্চে এর আগে একবারের জন্যেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি ভোজিনহা। পথের সব বাধা পেরিয়ে কেপ কেপ ভার্দেকে নিয়ে বিশ্বকাপে ঠাই করে নিয়েছিলেন। যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ইউরোপজয়ী দল স্পেনের বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ডদের একের পর এক গোলমুখী শট দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে ফিরিয়ে দিয়ে ইতিহাস লিখলেন এই অভিজ্ঞ দেওয়াল। তাঁর এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্টের দেখা পেল দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে।











