২৪ বছরের প্রতিশোধ নাকি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

২০০২ সালের সেই রাতটা ফুটবল বিশ্ব এখনো ভোলেনি। দক্ষিণ কোরিয়ার মাটিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস লিখেছিল সেনেগাল। পাপা বউবা দিওপের সেই একমাত্র গোলটি কেবল একটা ম্যাচের ফলাফল ছিল না, সেটা ছিল আফ্রিকান ফুটবলের ঘোষণাপত্র। ২৪ বছর পর দুই দেশ আবারও মুখোমুখি

২০০২ সালের সেই রাতটা ফুটবল বিশ্ব এখনো ভোলেনি। দক্ষিণ কোরিয়ার মাটিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস লিখেছিল সেনেগাল। পাপা বউবা দিওপের সেই একমাত্র গোলটি কেবল একটা ম্যাচের ফলাফল ছিল না, সেটা ছিল আফ্রিকান ফুটবলের ঘোষণাপত্র। ২৪ বছর পর দুই দেশ আবারও মুখোমুখি — আবারও বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আজ রাত ১টায় (বিএসটি) ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে নাকি প্রতিশোধ নেবে ফ্রান্স — সেটাই দেখার অপেক্ষা।

এই ম্যাচকে আরও আবেগময় করে তুলেছে দুই বেঞ্চের গল্প। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম ২০১২ সাল থেকে দ্য ব্লুজের দায়িত্বে আছেন। ২০১৮-তে বিশ্বকাপ, ২০২২-এ ফাইনাল — চৌদ্দ বছরের গৌরবময় অধ্যায়ের পর্দা এই বিশ্বকাপেই নামবে। এটাই তাঁর শেষ টুর্নামেন্ট। অন্যদিকে সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও নিজেও সেই ২০০২-এর সোনালি প্রজন্মের সদস্য ছিলেন, তবে বেঞ্চে বসেই দেখেছিলেন সেই ঐতিহাসিক জয়।

মাঠে আরও দুটো ব্যক্তিগত গল্প। ৩৪ বছর বয়সী সাদিও মানে জানিয়ে দিয়েছেন, এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। সেনেগালের সর্বকালের সেরা গোলদাতা বিদায়ী মঞ্চে স্মরণীয় কিছু করতে মরিয়া। আর বিপরীতে কিলিয়ান এমবাপে নামছেন ৫৬ আন্তর্জাতিক গোল নিয়ে — অলিভিয়ে জিরুর ফরাসি রেকর্ড ৫৭ থেকে মাত্র এক গোল পিছিয়ে।

দ্য ব্লুজের আক্রমণভাগ অপ্রতিরোধ্য — এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিজ মিলিয়ে এমন ভয়ঙ্কর ফরোয়ার্ড লাইন টুর্নামেন্টে আর নেই। তবে শেষ পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটি ক্লিন শিট রাখা ডিফেন্সই হতে পারে তাদের দুর্বলতা। সেনেগাল কোয়ালিফাইংয়ে অপরাজিত থেকেছে, পুরো ক্যাম্পেইনে মাত্র তিনটি গোল খেয়েছে। নিকোলাস জ্যাকসন ও ইসমাইলা সারের বিদ্যুৎগতির কাউন্টার অ্যাটাক ফ্রান্সের ব্যাকলাইনকে পরীক্ষায় ফেলতে পারে।

ফ্রান্স কখনো সেনেগালকে হারায়নি — এই পরিসংখ্যানই বলছে, আজকের রাতটা অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হতে পারে।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link