নেইমারের বিশ্বকাপ কি তবে শেষ?

এখন ব্রাজিল শিবির এবং কোচ আনচেলত্তি দুজনেই অপেক্ষায় আছেন সুসংবাদের। তবে ‘সেলেসাও’ সমর্থকদের মনে একটাই প্রশ্ন—কবে আবার জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামবেন নেইমার? নাকি জাতীয় দলের জার্সিতে আর মাঠেই নামবেন না তিনি?

নেইমার জুনিয়রকে ঘিরে উদ্বেগ কোনোভাবে কাটছেই না। ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ব্রাজিল জাতীয় দলের সঙ্গে থাকলেও এখনো মাঠে ফেরার মতো অবস্থায় পৌঁছাতে পারেননি এই তারকা ফরোয়ার্ড।

স্প্যানিশ গণমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, সোমবার নিজের গ্রেড-২ ডান পায়ের কাফ ইনজুরির অগ্রগতি যাচাই করতে নতুন করে মেডিকেল পরীক্ষা করিয়েছেন নেইমার। সকালে পরীক্ষা শেষে তিনি জিমে ঘাম ঝরালেও এখনও দলীয় অনুশীলনে যোগ দিতে পারেননি।

নেইমার গ্রুপ পর্বের ম্যাচ গুলো অন্তত মিস করতে চলেছেন বলে আভাস। পরের দুই ম্যাচ ২০ ও ২৫ জুন যথাক্রমে হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে ব্রাজিল। ১০ দিন পর নেইমার ক্যাম্পে ফিরলেও ব্রাজিল দলে স্বস্তি নেই।

সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, নেইমার ক্যাম্পে ফিরলেও তার চোট নিয়ে ধোঁয়াশা বাড়ছে। তিনি পরীক্ষার জন্য হাসপাতাল গেছেন, সেখান থেকে রিপোর্ট আসলেই জানা যাবে চূড়ান্ত অবস্থা।

ব্রাজিলের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, দলের চিকিৎসা বিভাগ নকআউট পর্বের আগে তাঁকে পুরোপুরি ফিট করে তোলার আশা করছে। তবে সেই আশা নিয়ে ডাক্তাররা নিজেরা খুব আশাবাদী নন। তাহলে কি বিশ্বকাপই শেষ নেইমারের?

গত ১৭ মে ব্রাজিলিয়ান লিগের একটি ম্যাচে চোট পান সান্তোস তারকা। ঘটনাচক্রে সেই চোট পাওয়ার একদিন পরই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। চোট থাকা সত্ত্বেও নেইমারকে ২৬ সদস্যের দলে রেখেছিলেন ইতালিয়ান কোচ, আশা ছিল টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়েই তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।

তবে এখন পর্যন্ত সেই আশা পূরণ হয়নি। বিশ্বকাপ শুরুর পর নেইমার এক মিনিটও মাঠে নামেননি, এমনকি আনচেলত্তির অধীনে কোনো দলীয় অনুশীলনেও অংশ নিতে পারেননি।

ইনজুরির কারণে তিনি পানামা ও মিশরের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ মিস করেছেন। পাশাপাশি মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও মাঠে নামতে পারেননি। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে বেঞ্চে বসেই ১-১ ড্র দেখেছেন তিনি।

মরক্কো ম্যাচের আগে আনচেলত্তি আশা প্রকাশ করেছিলেন, চলতি সপ্তাহেই নেইমার দলীয় অনুশীলনে ফিরবেন। কিন্তু সোমবারও অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকায় শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে।

ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় থাকা নেইমার দীর্ঘদিন ধরেই চোটের সঙ্গে লড়াই করছেন। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে বাঁ হাঁটুর এসিএল ও মেনিস্কাস ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি আর ব্রাজিলের সিনিয়র দলের হয়ে কোনো অফিসিয়াল ম্যাচ খেলেননি।

এখন ব্রাজিল শিবির এবং কোচ আনচেলত্তি দুজনেই অপেক্ষায় আছেন সুসংবাদের। তবে ‘সেলেসাও’ সমর্থকদের মনে একটাই প্রশ্ন—কবে আবার জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামবেন নেইমার? নাকি জাতীয় দলের জার্সিতে আর মাঠেই নামবেন না তিনি?

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link