‘টেস্ট ক্রিকেটার’ তকমাই এখন অচল

লাল বলের ক্রিকেটটাই খেলেন তিনি, টেস্টের সবচেয়ে বড় পারফরমারদের একজন তিনি। অথচ, মুমিনুল হকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ওয়ানডে দিয়ে। যদিও, এখন আর সাদা বলের ক্রিকেটে তাঁর নাম আর জ্বলে ওঠে না। টেস্ট ক্রিকেটারের তকমা নিয়েই কেটে যাচ্ছে ক্যারিয়ার, এই নিয়ে সাবেক টেস্ট অধিনায়কের ক্ষোভেরও শেষ নেই।

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক এই বাঁহাতি এখনও লাল বলে ব্যাট আস্থার প্রতীক। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাদা বল যেন তার জন্য বহুদিন ধরেই নিষিদ্ধ এক জায়গা। সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে, টি-টোয়েন্টি তো আরও আগে—২০১৪ সালে। এরপর থেকে জাতীয় দলে তার দায়িত্ব কেবল টেস্টের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ।

ঘরোয়া অঙ্গনেও একই চিত্র। ২০২৬ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সিলেট টাইটান্স দলে সুযোগ পেলেও একটি ম্যাচেও মাঠে নামা হয়নি তার। পুরো টুর্নামেন্ট কেটেছে ডাগআউটের বেঞ্চ গরম করে। অথচ প্রায় একই সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিতই খেলেছেন তিনি। প্রশ্নটা তাই আরও জোরালো—সমস্যা কি পারফরম্যান্সে, নাকি দৃষ্টিভঙ্গিতে?

বগুড়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) উদ্বোধনী রাউন্ডে ইস্ট জোনের জার্সিতে ৮২ বলে ৮৩ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন মুমিনুল। ম্যাচ শেষে কথা বলতে গিয়ে যেন জমে থাকা আক্ষেপই উগরে দিলেন।

তার সোজাসাপ্টা কথা, নির্বাচন হওয়া না হওয়া গৌণ বিষয়; মূল হওয়া উচিত পারফরম্যান্স। কিন্তু কাউকে যদি শুরু থেকেই শুধু লাল বলের ক্রিকেটার হিসেবে তৈরি করা হয়, তাহলে সেটাই টেস্ট ক্রিকেটের জন্য অশনিসংকেত। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘ঘরোয়া সাদা বলের টুর্নামেন্টেও যদি সুযোগ না পাই, তাহলে বার্তাটা কী দাঁড়ায়?’

মুমিনুলের শঙ্কা আরও গভীর। তরুণরা যখন দেখবে, তিনি বা সাদমান ইসলামের মত টেস্ট ক্রিকেটাররা বিপিএল কিংবা অন্য সাদা বলের আসরে নিয়মিত সুযোগ পান না, তখন তারা কেন টেস্ট বিশেষজ্ঞ হওয়ার স্বপ্ন দেখবে? লাল বলের রোমান্টিকতা আছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো—সাদা বলেই বেশি ম্যাচ, বেশি প্রাসঙ্গিকতা, আর্থিক নিরাপত্তাও বেশি।

মুমিনুলের ভাষায়, ‘এই অবস্থায় কাউকে টেস্ট ক্রিকেটার হতে বলাটা কঠিন। কারণ এতে সাদা বলের দরজা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এটা ভালো দৃষ্টান্ত নয়।’

লাল বলের নীরব সাধক মুমিনুল হক তাই কেবল নিজের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন নিয়েই প্রশ্ন তুললেন। প্রশ্নটা এখন নির্বাচকদের কোর্টে—একজন ক্রিকেটারকে কি কেবল একটি ফরম্যাটে বেঁধে রাখা যায়, নাকি পারফরম্যান্সই শেষ কথা হওয়া উচিৎ?

Share via
Copy link