প্রথম প্রেম, শেষ ভালবাসা

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে রীতিমত দস্যু ছিলেন তিনি। ছিলেন টি-টোয়েন্টির ফেরিওয়ালা। কিন্তু, যদি প্রশ্ন আসে ক্রিকেট মাঠে ক্রিস্টোফর হেনরি গেইলের ‘প্রথম প্রেম, শেষ ভালবাসা’ কি? উত্তর আসবে সাদা পোশাক, লাল বল। মানে টেস্ট ক্রিকেট।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে রীতিমত দস্যু ছিলেন তিনি। ছিলেন টি-টোয়েন্টির ফেরিওয়ালা। কিন্তু, যদি প্রশ্ন আসে ক্রিকেট মাঠে ক্রিস্টোফর হেনরি গেইলের ‘প্রথম প্রেম, শেষ ভালবাসা’ কি? উত্তর আসবে সাদা পোশাক, লাল বল। মানে টেস্ট ক্রিকেট।

বিস্ফোরক, বিনোদনদায়ী, আর একেবারে ধ্বংসাত্মক—ক্রিস গেইল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটে ওপেনিং মানেই ছিল এক অন্যরকম শৌর্য-স্বভাব। মাঠে নামলেই যেন হেঁটে আসতো একঝলক অহংকার। গেইলকে বলা যায়, ব্যাট হাতে এক চলমান বিদ্রোহ।

এত কথা, এত উপমা, এত শব্দ ভাণ্ডারে তাঁকে মহিমান্বিত করা তা কেবল ২০ ওভারের ক্রিকেটে ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ের জন্য নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বকালের সেরা টেস্ট ব্যাটারদের একজন তিনি। এমনকি টেস্টের সেরা ওপেনারদের নাম বলতে গেলেও তাঁর নামটা আসবেই।

টি-টোয়েন্টিতে তাঁর নামের সামনে ‘ইউনিভার্স বস’ ট্যাগটা জুড়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটেও তিনি ছিলেন সমান দাপুটে। যে ফরম্যাটে ধৈর্য, ধীরতা আর নিখুঁত কৌশল চাই, সেখানে গেইল আসতেন নিজের মত করে—প্রথম বল থেকেই প্রহার করতে জানতেন। টেস্ট ক্রিকেটে এমন ব্যাটার খুব কমই দেখা গেছে।

শুধু এক ইনিংস নয়, পুরো ক্যারিয়ারই তাঁর ব্যতিক্রমী। ৯৯ টেস্টে ৭০২৮ রান, গড় ৪৩.১১—সংখ্যাটা যেমন, কীর্তিটাও তেমনি। সর্বোচ্চ ৩৩৩, আর কেবল চারজনের কাতারেই তিনি, যাঁরা দুই-দুইটি ট্রিপল সেঞ্চুরির মালিক।

ব্যাটই নয়, হাত ঘুরিয়েও অবাক করেছেন অনেকবার। অফ স্পিনে হয়তো নিয়মিত বোলার ছিলেন না, কিন্তু ৭৩ টেস্ট উইকেট, দুটো পাঁচ উইকেট শিকার—প্রমাণ করে দেন, চাইলে বল হাতেও তিনি ম্যাচ ঘোরাতে পারেন।

ক্রিস গেইল আসলে শুধু আর দশজন টেস্ট ক্রিকেটার, তিনি ছিলেন সাদা পোশাকের এক দমকা হাওয়া—যে হাওয়ায় ভেসে যেতো প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণ। গেইল টেস্ট ক্রিকেটকে দেখতেন জীবনের মত করে।

তিনি একবার বলেছিলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট খেলার অর্থ হল দক্ষতার পরীক্ষা নেওয়া আর মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলা। এটা আপনাক নিবেদিত করে, নিজের কাজটা উপভোগ করতে শেখায়। এটা শুধু খেলাধুলার জীবনের জন্য না, জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও সত্য। একটা বিষয় কাজ না কররে, আরেকটা সুযোগ আপনার জন্য আসবেই। তাই, কখনোই মনকে ছোট করতে নেই – সেটা আপনি ক্রিকেটার হন কিংবা না হন।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনিং স্লটে তাঁর আগমন মানেই ছিল ভয় আর বিনোদনের মিশ্রণ। টেস্ট ক্যারিয়ারটা নি:সন্দেহে আরও বড় হতে পারত। টি-টোয়েন্টির ফেরিওয়ালা হবেন বলেই, টেস্ট ক্যারিয়ার লম্বা করেননি। কতটা পাগলাটে চরিত্র হলে ৯৯ টেস্টে থেমে যাওয়া যায়, গেইল থেমেছিলেন। কিন্তু, টেস্ট তিনি ভুলে যাননি, হারানো দিনের প্রথম প্রেমের সেই গোলাপের মত বুকের মাঝে আগলে রেখেছেন সব সময়।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link