সঙ্গের গুণে ভাসবে ভারত

এমন বিরল সময় খুব কমই আসে, যখন অভিজ্ঞতা আর পরিবর্তন একসঙ্গে জায়গা করে নেয় একই ড্রেসিংরুমে। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের দিকে ভারত যখন নতুনভাবে যাত্রা শুরু করছে, তখনই নেতৃত্বের নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে গিলের হাত ধরে।

শুভমান গিলের অধিনায়কত্বের প্রথম ওয়ানডে দায়িত্বটা এসেছে এক অনন্য প্রেক্ষাপটে। তিনি নেতৃত্ব দেবেন এমন এক দলে, যেখানে আছেন ভারতের সাবেক দুই প্রভাবশালী অধিনায়ক—রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। এমন বিরল সময় খুব কমই আসে, যখন অভিজ্ঞতা আর পরিবর্তন একসঙ্গে জায়গা করে নেয় একই ড্রেসিংরুমে। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের দিকে ভারত যখন নতুনভাবে যাত্রা শুরু করছে, তখনই নেতৃত্বের নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে গিলের হাত ধরে।

তবে ২৬ বছর বয়সী গিলের কথায়, রোহিত-বিরাটের সঙ্গে সম্পর্কের জায়গায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। প্রথম ওয়ানডের আগের দিন পার্থে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কিছুই বদলায়নি, সব আগের মতোই আছে। বাইরের গল্পটা আলাদা হতে পারে, কিন্তু আমাদের সম্পর্ক একই রকম রয়েছে। এটা আমার জন্য খুবই সহায়ক।’

রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান গিল। তিনি বলেন, ‘রোহিত-বিরাটের অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য জরুরী। উইকেট বা পরিস্থিতি বুঝে যে জিনিসগুলো তাঁরা এতদিন শিখেছে—আমি সেগুলো জানতে চাই। আমি তাদের কাছে যাই, জিজ্ঞেস করি যদি তারা আমার জায়গায় থাকত, তাহলে কী করত। এরপর নিজের বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেই। আমি সবসময় অন্যদের ভাবনা জানতে ভালোবাসি।’

নতুন অধিনায়ক জানান, রোহিত ও বিরাটের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া দারুণ। তিনি বলেন, ‘আমার সম্পর্ক খুব ভালো দুজনের সঙ্গেই। কোনো বিষয়ে সন্দেহ হলে আমি ওদের কাছে যাই, মতামত চাই, পরামর্শ চাই—ওরা কখনো না বলেন না। আমার মনে হয়, ওদের অভিজ্ঞতাই আসল সম্পদ।’

যাদের দেখে বড় হয়েছেন, যাদের খেলায় অনুপ্রাণিত হয়েছেন, এখন তাদেরই নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গিলের জন্য সময়টা তাই চ্যালেঞ্জিং। বললেন, ‘শৈশবে তাঁদের আমি অনুসরণ করেছি। তাদের ক্ষুধা, তাদের মানসিকতা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। এখন তাদের নেতৃত্ব দেওয়াটা আমার জন্য বিশাল সম্মান। আমি জানি, এই সিরিজে অনেক মুহূর্ত আসবে যখন ওদের কাছ থেকে শিখব। কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়লে আমি পরামর্শ নিতে কখনো দ্বিধা করব না।’

নিজের নতুন ভূমিকা নিয়ে গিলের লক্ষ্য পরিষ্কার—পূর্বসূরিদের তৈরি করা ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই এটা আমার জন্য দারুণ রোমাঞ্চকর। এমএস ধোনি, বিরাট কোহলি আর রোহিত শর্মার মতো কিংবদন্তিদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য বহন করা সহজ নয়। কিন্তু আমি অনেক কিছু শিখেছি ওদের কাছ থেকে—কীভাবে দলকে এগিয়ে নিতে হয়, কীভাবে সঠিক সংস্কৃতি তৈরি করতে হয়। সেই অভিজ্ঞতাগুলোই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।’

Share via
Copy link