আফগানিস্তানের ত্রাণকর্তা বনে গেলেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ। রেকর্ডবুকে হয়ে উঠলেন খোদ শহীদ আফ্রিদির সমতুল্য। ৪৮ বলে করেন সেঞ্চুরি, ৫১ বলে আউট হওয়ার আগে করেন ১০২ রান। ২০০ স্ট্রাইক রেটের এক দানবীয় ইনিংস।
বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল বাড়তি কিছু। আর সেই কাজটাই একা হাতে করে দিলেন রাহমানুল্লাহ গুরবাজ। ভারতের বোলারদের সামনে আর কারো ব্যাট যেখানে হাসেনি একটুও, সেখানে তাণ্ডব চালিয়ে গুরবাজ করেছেন দারুণ এক সেঞ্চুরি।
বৃষ্টির কারণে ৫০ ওভারের ম্যাচ নেমে আসে ২৫ ওভারে। টস জিতে ভারত বল করার সিদ্ধান্ত নিলে ইনিংস শুরু করতে নামেন গুরবাজ। কিন্তু, ক্রিজে থিতু হওয়ার আগেই দেখতে লাগলেন অন্য পাশ থেকে সঙ্গীদের সাজঘরে ফেরার তাড়া। মাত্র ২৬ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে আফগানিস্তান ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল।
ম্যাচ শুরুর আগেই বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন এই পিচে সহজে বড় রান করা যাবে। ভারত অল্প রানে উইকেট পাওয়া শুরু করলেও গুরবাজ সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান। আক্রমণ চালিয়ে যান অধিনায়ক হাসমাতুল্লাহ শাহিদীকে অন্য পাশে রেখে।

অল্প রানে টপ-অর্ডার গুঁড়িয়ে গেলে সাধারণত ব্যাটাররা ধীরগতির খেলা শুরু করে দেন। কিন্তু, গুরবাজ সেই পথে পা বাড়াননি একবারের জন্যেও। একেবারে প্রথম থেকেই ব্যাটকে তরবারির মতো চালানো শুরু করেছিলেন, যেটা টেনে নিয়ে গেছেন পুরো সময় জুড়ে।
ভারতের স্পিনার হোক কিংবা পেসার, সবাইকেই সপাটে চার-ছয় মেরে গেছেন গুরবাজ। শহীদ আফ্রিদির পর একমাত্র ব্যাটার হিসেবে ভারতের বিপক্ষে ৫০ বলের কম খেলেই তুলে নেন সেঞ্চুরি। যদিও শতরানের পর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি তিনি। নিতীশ রেড্ডির বলে বোল্ড হওয়ার আগে আটটি করে চার-ছক্কায় করেন ২০০ স্ট্রাইকরেটে করেন ১০২ রান।
ভারত পরপর তিন উইকেট তুলে ফেললে মনে হয়েছিল আফগানিস্তানের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটবে অল্প রানেই। তবে, গুরবাজ যে অল্প পরিকল্পনা মাথায় রেখে বসেছিলেন। তাঁর শতকের পথে ধরেই বড় সংগ্রহের দিকে যাওয়ার সুযোগ পায় আফগানিস্তান।











