বিশ্বকাপে ৩২ বছরের এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড হারাতে বসেছে নেদারল্যান্ডস! ১৯৯৪ সাল থেকে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে অপরাজিত থাকার যে কীর্তি গড়েছিল ডাচরা, তা এবার এশিয়ার পরাশক্তি জাপানের সামনে এসে এক চরম ঝুঁকিতে দাঁড়িয়েছে। ফুটবলভক্তদের চোখ এখন ডাচ টোটাল ফুটবল আর জাপানি ফ্লুইড পজিশনিংয়ের দ্বৈরথের দিকে।
নেদারল্যান্ডসের ডাগআউটে এখন কোচ দেশটির কিংবদন্তী রোনাল্ড কোম্যান, যার নেতৃত্বে ১৯৯৪ সালে মাঠে নেমেছিল অরেঞ্জ আর্মির দেশটি। তবে এবারের মিশনটা ডাচদের জন্য বড্ড কঠিন। বাছাইপর্ব থেকে অনেকটা ধুঁকতে ধুঁকতে মূলপর্বে জায়গা করে নেওয়া নেদারল্যান্ডস নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আলজেরিয়ার কাছে হেরে ১০ ম্যাচ ধরে অপরাজিত থাকার রেকর্ড খুইয়ে বসেছে।
বিপরীতে, জাপানের ফুটবল এখন দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল অবস্থানে আছে। গত কয়েক বছর ধরে ব্লু সামুরাইদের ফর্ম এককথায় দুর্দান্ত। শেষ ছয় ম্যাচে ব্রাজিল ও ইংল্যান্ডের মতো বিশ্বসেরাদের হারিয়ে তারা এখন উড়ন্ত ফর্মে রয়েছে। এমনকি গত পাঁচ ম্যাচে একবারও গোল হজম করেনি জাপান।

বাছাইপর্বে এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোল করে বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া জাপান ডিফেন্স থেকে শুরু করে অ্যাটাক, সব জায়গাতেই ভালো ফলাফল দেখিয়ে যাচ্ছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেওয়া দলটি এবার স্বপ্ন দেখছে বড় কিছু করার।
২০১০ সালের বিশ্বকাপে ডাচদের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরেছিল জাপান। কিন্তু দুই দলের সাম্প্রতিক মাঠের খেলা বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। যেখানে নেদারল্যান্ডসের সাম্প্রতিক ফর্ম বেশ গড়পড়তা, সেখানে জাপানের মাঠের পারফরম্যান্স বলছে একেবারে ভিন্নকথা।
ভার্জিল ভ্যান ডাইকের দল এখন ভালো টাচে না থাকলেও কোনোভাবেই তাদের ছোট করে দেখবে না জাপান, বরং, নিজেদের চাইবে রক্ষণভাগের শক্তি দিয়ে ডাচদের আটকে রেখে কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করে ম্যাচ জেতার। এশিয়ার ভক্তদের প্রত্যাশা ডাচদের হারিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপের যাত্রা দারুণ উপায়ে শুরু করবে জাপান।











