ফিফা ইজ রান বাই বাংলাদেশ!

‘ফিফা নাকি বাংলাদেশ চালায়!’ পোস্টটি দ্রুতই বাংলাদেশি সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে শুরু হয় মজার সব প্রতিক্রিয়া ও ট্রল।

আজকের দিনটা বাংলাদেশ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নি:সন্দেহে বিশেষ। আর হবেই বা না কেন? ইউরোপের মাটিতে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। প্রীতি ম্যাচ হলেও সান মারিনোর বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের এই জয় সমর্থকদের মনে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের জন্য অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। তাই ইউরোপের কোনো দেশের মাঠে গিয়ে জয় পাওয়ার অর্জনটিকে শুধুমাত্র একটি প্রীতি ম্যাচের ফলাফল হিসেবে দেখছেন না অনেকেই। বরং এটিকে ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখছেন সমর্থকরা।

ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে জোড়া গোল করেন তপু বর্মণ। তার পারফরম্যান্সের পাশাপাশি পুরো দলের লড়াকু মানসিকতাও প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জয়ের জন্য লড়ে যাওয়ার মানসিকতা সমর্থকদের মনে দাগ কেটেছে।

তবে ম্যাচ শেষের পর সবচেয়ে বেশি সরব ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জয় উদযাপনে মেতে ওঠেন বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীরা। অনেকেই এই জয়কে বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য ‘নতুন সূচনা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

অন্যদিকে সান মারিনোর অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও ম্যাচ-পরবর্তী একটি পোস্ট বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। শেষ মুহূর্তের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশের পাশাপাশি রসিকতার ছলে তারা দাবি করে, ‘ফিফা নাকি বাংলাদেশ চালায়!’ পোস্টটি দ্রুতই বাংলাদেশি সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পরে এবং তা নিয়ে শুরু হয় মজার সব প্রতিক্রিয়া ও ট্রল।

শিরোপা না হলেও এই জয় বাংলাদেশের ফুটবলকে দিয়েছে মূল্যবান এক আত্মবিশ্বাস। এখন সমর্থকদের প্রত্যাশা, এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আসন্ন ২০২৭ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে আরও বড় সাফল্যের পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link