যা করার আমি করে দিয়েছি, এবার তোমরা দয়া করে বাচাও। এমনটাই হয়ত ইব্রাহিম জাদরান বললেন তার সতীর্থদের। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে টিকে থাকতে হলে ইংল্যান্ডকে হারাতেই হবে আফগানদের। আর সেই জন্যে ব্যাটিংয়ে দারুণ কিছু করতে হতো। একটা উড়ন্ত সূচনা এনে দিতে হতো ইব্রাহিম জাদরানদের।
সে কাজটাই করে দিয়েছেন ইব্রাহিম। শুরুতে তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল আফগানিস্তান। কিন্তু সেখান থেকে দলের ইনিংসকে প্রায় একা হাতেই টেনেছেন ইব্রাহিম। শতক হাঁকিয়েছেন তিনি। এই সময়ে বলের সাথে তার রানের দূরত্ব খুব একটা বাড়তে দেননি। একেবারে প্রোপার ওয়ানডে ব্যাটিংটা করেছেন ইব্রাহিম।
তাতে করে বড় সংগ্রহের ভীত খুব সহজেই পেয়ে যায় আফগানিস্তান। ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ রীতিমত অসহায় হয়ে পড়ে ইব্রাহিমের সামনে। তিনি জানেন তার দলের স্পিনাররা, বিশেষ করে লেগ স্পিনাররা বিশ্বসেরা। তাদের ডিফেন্ড করার মত একটা সংগ্রহ গড়ে দিলেই ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা আছে রশিদ খান, নুর আহমেদদের।

তাইতো জাদরান হাত জড়ো করে অনুরোধ করলেন। সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তিনি ড্রেসিংরুমের দিকে তাকিয়ে হাত ঘুরিয়ে লেগ স্পিনারদের নজর কাড়লেন। এরপর হাত জড়ো করে অনুরোধ করলেন। যেন তিনি বলতে চাইলেন, ‘ভাই আমি আমার কাজটা করেছি। এবার প্লিজ তোমরা ম্যাচটা জেতাও’।
দলের বোলারদেরও নিশ্চয়ই ইব্রাহিমের উপর ছিল আস্থা। সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন তিনি বাইশ গজে। সেঞ্চুরি করেও থেমে থাকেননি তিনি। বরং আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন। পাকিস্তানের উইকেটে যে কোন রানই যথেষ্ট নয়। তাইতো তিনি দলের রান যতটা বাড়িয়ে নেওয়া যায়, সে প্রচেষ্টা করে গেছেন যতক্ষণ ছিলেন ক্রিজে।
এবার ইব্রাহিম জাদরানের বোলারদের তার এমন অনবদ্য ইনিংসের প্রতিদান দেওয়ার পালা। ইংল্যান্ডকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে বিদায় জানানোর দায়িত্বটা এবার রশিদ-নুরদের হাতে। তারা কি পারবেন জাদরানের মতই জ্বলে উঠতে?












