পারলে মাঠের খেলাও নিয়ন্ত্রণ করতে চায় আইসিসি!

এই ধরণের প্রশ্নবিদ্ধ নিয়মকানুন প্রমাণ করে যে আইসিসি এখনও বৈশ্বিক ক্রীড়া সংস্থা হয়ে উঠতে পারেনি।

আপনাদের অক্টোপাস পলের কথা মনে আছে? ওই যে বিশ্বকাপের সময় কোন দল জিতবে সে ভবিষ্যদ্বাণী করত। কি এক উৎকণ্ঠাই না সৃষ্টি হতো। যেকোন বড় টুর্নামেন্টের আগে ভবিষ্যদ্বাণী হবে সেটাই তো স্বাভাবিক।

কে আগেভাগে বাদ পড়বে, কারা শেষ চার বা শেষ আটে যাবে, শেষ পর্যন্ত ট্রফিটা কার হাতে উঠবে তা নিয়ে বিশ্লেষক, সাবেক খেলোয়াড় আর সমর্থকদের তর্ক-বিতর্ক যেকোন টুর্নামেন্টের রঙ বাড়ায়, আলোচনার খোরাক মেটায়। কোন কোন ক্ষেত্রে উত্তেজনাও ছড়ায়।

কিন্তু একটা জায়গায় এসে এই অনুমানের খেলা থেমে যাওয়া উচিত- আয়োজকদের কাছে। কারণ আয়োজকরাই যদি নিজেদের টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ আগেই ঠিক করে ফেলেন, তাহলে প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল যেন এসবের তোয়াক্কা করে না।

প্রি-সিডিং নামক এক অদ্ভুত নিয়ম চালু করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও এরপর চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই নিয়ম বলবৎ রেখেছে সংস্থাটি। সুপার এইটে ওঠা আটটি দলের গ্রুপগুলো আগে থেকেই অনুমান করে রাখার রীতি চালু করেছে আইসিসি। যার ফলে এবারের বিশ্বকাপে সব গ্রুপ চ্যাম্পিয়নরা একদিকে, আর রানার্সআপরা অন্যগ্রুপে।

র‍্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে আইসিসি অনুমান করে রেখেছে কারা কোথায় যাবে। এর থেকে অবান্তর কোন নিয়ম হয় না, তা দুই আসরেই প্রমাণ করেছে দুই খর্বশক্তির দল। ২০২৪ সালে পাকিস্তানকে হটিয়ে সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। আর এবার অস্ট্রেলিয়াকে বাড়ি পাঠিয়ে সুপার এইটে এসেছে জিম্বাবুয়ে।

তাতে করে আইসিসির ব্যবসার ধ্যানধারণা আবারও প্রবলভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। যদিও আইসিসি জানিয়েছে দর্শকদের পরিকল্পনা সহজ করতেই তাদের এই প্রি-সিডিং পদ্ধতির উদ্ভাবন। যাতে করে দর্শকরা জানতে পারেন তাদের প্রিয় দলের খেলা কোথায় হতে পারে। সে অনুযায়ী পরিকল্পনা যেন তারা সহজেই করতে পারে। কি মহৎ উদ্দেশ্য!

তবে কেন, প্রথম রাউন্ডের গ্রুপ করার ক্ষেত্রে কোন প্রকার স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয় না? বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তো বেশ ঘটা করে গ্রুপ বিভাজনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে। কিন্তু আইসিসি প্রতিবারই হুট করে জানিয়ে দেয় গ্রুপগুলো। যেখানে প্রতিবারই দেখা যায় ভারত-পাকিস্তান রয়েছে একই গ্রুপে।

এই ধরণের প্রশ্নবিদ্ধ নিয়মকানুন প্রমাণ করে যে আইসিসি এখনও বৈশ্বিক ক্রীড়া সংস্থা হয়ে উঠতে পারেনি। তাদের কাছে মাঠের ক্রিকেট কতটুকু উন্মাদনা ছড়াল কিংবা বিশ্বায়ন ঘটাল, তার থেকে বেশি প্রাধান্য পায় বড় দলগুলোর লড়াইকে কেন্দ্র করা বাণিজ্য। পারলে মাঠের খেলাও নিয়ন্ত্রণ করতে চায় আইসিসি!

 

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link