আইসিসি রীতিমত বাংলাদেশের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ শুরু করেছে। বড়দের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তো খেলার সুযোগ কেড়ে নিয়েছে, অন্যদিকে নিদারুণ যন্ত্রণার মাঝে রেখেছিল যুব টাইগারদের। যুব বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ভ্রমণক্লান্তির বিপাকে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দলকে। ‘অযুহাত’ বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায় চাইলেই। কিন্তু বিশ্বকাপের মত একটি বৈশ্বিক আসরে, পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত প্রশ্ন তোলে আইসিসির সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতাকে।
এবারের যুব বিশ্বকাপে আইসিসি অভ্যন্তরীণ বিমানযাত্রা নিষিদ্ধ করেছিল। যার অর্থ দাঁড়ায় এক শহর থেকে আরেক শহরে যাতায়েতের জন্য দলগুলোকে ব্যবহার করতে হয়েছে বাস। সমস্যা হচ্ছে, এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুর দূরত্ব। যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দু’টো ভেন্যুতে খেলতে হয়েছে। যে দুই ভেন্যুর দূরত্ব ছিল সড়কপথে প্রায় চার ঘন্টা।
বাংলাদেশ অবতরণ করে হারারেতে। তাদেরকে দশ তারিখের ম্যাচ খেলতে যেতে হয় মাসভিংগোতে, আবার হারারেতে ফেরত আসতে হয়েছে ১৩ তারিখের ম্যাচ খেলার জন্য। তাতে করে মোট ১২ ঘন্টা ভ্রমণেই কেটে যায় টাইগার যুবাদের। এখানেই শেষ নয়। হারারে থেকে বুলাওয়ে যেতে হয়েছে বাংলাদেশকে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ খেলার জন্য। সড়কপথে বর্ষা মৌসুমে প্রায় নয় ঘন্টা লেগে যেত।

সে কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিজস্ব অর্থায়নে বিমান ভাড়া করে, ম্যাচগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে। বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর, হাবিবুল বাশার বলেন, ‘ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ছেলেরা যেন অতিরিক্ত ক্লান্ত না হয়ে পড়ে, সে জন্য বিসিবি নিজেদের পকেট থেকেই অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের খরচ বহন করেছে। কারণ বাসযাত্রা ছিল খুবই দীর্ঘ এবং সরাসরি ফ্লাইটও সহজলভ্য ছিল না।’
ওই দুই ম্যাচ খেলার পর, আবার যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য বাসযোগে হারারেতে ফেরে বাংলাদেশ যুবদল। ২০ জানুয়ারির ম্যাচ খেলে, ২৩ জানুয়ারির ম্যাচের আগেই নয়ঘন্টা যুব টাইগারদের কাটে রাস্তায়। এরপর আবার ২৬ জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সুপার সিক্সের ম্যাচের জন্য বুলাওয়েতে যায় বাংলাদেশ দল। এরপর আবার তাদেরকে ফেরত আসতে হয়েছে হারারেতে।
অথচ, ভারত তাদের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ খেলেছে বুলাওয়েতে। অস্ট্রেলিয়া নামিবিয়ার উইন্ডহুকে নিজেদের প্রস্তুতি থেকে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ খেলেছে। শুধু সুপার সিক্সের শেষ ম্যাচের জন্য হারারেতে পা রেখেছে। একই দশা ইংল্যান্ডেরও। মোড়লদের জন্যই যেন আইসিসির সকল আয়োজন।

এই অসঙ্গতির বিরুদ্ধে টুর্নামেন্টের শুরুর আগেই আইসিসির শরণাপন্ন হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে আবেদন কর্ণপাত করেনি আইসিসি। আইসিসি কি সত্যিই বিশ্ব ক্রিকেটের অভিভাবক? এমন প্রশ্ন ওঠা তাই মোটেও অস্বাভাবিক নয়। এই অন্যায় সূচির যাতাকলে আর কতদিন পিষ্ট হবে বাকিরা?











