বহুল প্রতিক্ষার সেই ম্যাচ। ভারত-বাংলাদেশ মহারণের হামজা চৌধুরী ইফেক্ট টের পাওয়া গেল একেবারে শুরুতে। স্নায়ুচাপ ভারতীয় ফুটবলারদের চোখেমুখে। প্রথম মিনিটেই ভারতীয় গোলরক্ষক বিশাল কাইথ ভুল করে বসলেন। একেবারে ফাঁকা পোস্ট। কিন্তু ফাঁকা পোস্টে গোল করতে ব্যর্থ হলেন শাহরিয়ার হোসেন ইমন।
এই একটা জায়গায় যেন বাংলাদেশ পিছিয়ে। বড় নাম, শিলংয়ের মাঠ ভর্তি দর্শকদের সামনে ভারতকে ভীষণ চাপেই রেখেছিল বাংলাদেশ দল। হামজা চৌধুরির প্রভাবটা টের পাওয়া গেছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মাঝেও। দুর্বার এক সাহসিকতায় তারা ভারতকে প্রায় ঠেসে ধরেছিল দেয়ালে।
১১ মিনিটের মাথায় মোহাম্মদ হৃদয়ও আরেকটু সুযোগ পেয়ে যান গোল করার। কিন্তু গোললাইন ক্লিয়ারেন্সের সে যাত্রায়ও ভারত বেঁচে যায়। কিন্তু গোটা বাংলাদেশ দলের ইন্টেন্সিটি যেন আকাশ ছোঁয়া। প্রতিটা খেলোয়াড় যেন এক অদৃশ্য আত্মবিশ্বাসের টনিক নিয়ে নেমেছিল মাঠে।

ম্যাচের তখন ১৮ মিনিট। হামজার কর্ণার কিক থেকে বল জটলা ঘুরে শেখ মোরসালিনের পায়ে। ডি বক্সের ডান পাশ থেকে মোরসালিনের বা-পায়ের ক্রস ইন। দৌড়ে গিয়ে হাওয়ায় রীতিমত ভেসে গিয়ে হেড করলেন ইমন। কিন্তু এবারও তা রাখা গেল না গোল পোস্টে।
এই পুরোটা সময় জুড়ে ভারতের ছিল না কোন আক্রমণ। ভারত যে একটা নামের ভারেই এক অদেখা খোলসে নিজেদের বন্দী করে ফেলে। কিন্তু হুট করেই বাংলাদেশের ডিফেন্সের নেতা তপু বর্মণ ইনজুরিতে মাঠ ছাড়েন। এরপর যেন একটু সাহস ফিরে পায় ভারত। তারা আক্রমণ সাজানোর সুযোগ পেয়ে যায়।
একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ভারত নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। আক্রমণ নিয়ে হাজির হয়েছে বাংলাদেশের রক্ষণে। কিন্তু গোল তাদেরও পাওয়া হয়ে ওঠেনি। উলটো ৪০ মিনিটের সময় ডান পাশ দিয়ে ক্ষিপ্রতার সাথে ঢুকে গেলেন মুজিবর রহমান জনি। বিশ্বমানের প্রথম টাচে বল আয়ত্ত্বে নিয়ে তিনি আটকে যান ভারতের গোলরক্ষকের সামনে।

পুরো প্রথম অর্ধে বাংলাদেশই ছিল এগিয়ে। আর এই এগিয়ে থাকার পেছনে হামজার প্রভাবটা একেবারেই ছিল স্পষ্ট। আক্রমণ থেকে রক্ষণ হামজা একটা আলাদা প্রলেপ যেন যুক্ত হয়। আর তাতে করে ভারত সম্ভবত এ যাবৎকালের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাটাই দিয়েছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। দ্বিতীয় অর্ধে বাংলাদেশ দলের এই প্রবল আত্মবিশ্বাস ও ইন্টেন্সিটি বজায় রাখতে পারবে কি-না, সেটাই বড় প্রশ্ন। হামজা ইফেক্ট শুরু হয়েছে, গোলের দুয়ার খুলে জয় পেলেই তা পাবে পূর্ণতা।











