প্রথম টেস্টের একাদশ নিয়ে দোটানায় ভারত

তিন স্পিনার নাকি তিন পেসার, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ভারতের জন্য কোনটা বেছে নেওয়া লাভজনক? গলের গতিবিধি বুঝতে না পারলে সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে। এখানেই ভারতকে বাজি ধরতে হবে।

তিন স্পিনার নাকি তিন পেসার, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ভারতের জন্য কোনটা বেছে নেওয়া লাভজনক? গলের গতিবিধি বুঝতে না পারলে সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে। এখানেই ভারতকে বাজি ধরতে হবে। তিন পেসারের সেফ জোন নাকি তিন স্পিনার ঝুঁকিপূর্ণ পথ, একাদশ কেমন হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করা যাক।

দলটার সবচেয়ে বড় ভরসা লোকেশ রাহুল। তাঁকেই দায়িত্ব নিতে হবে শুরু থেকে। অবশ্য সুবিধাটাও আছে। প্রথম দিকে গলের উইকেট বেশ ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি। রাহুল নিজের ক্লাসটা কাজে লাগাতে পারলে ভারত চিন্তামুক্ত হতে পারে। সঙ্গী হিসেবে যশস্বী জয়সওয়াল তো থাকবেনই।

তিনে নামা দেবদূত পাদ্দিকালের জন্য চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। দুই টেস্টে ৯০ রান, খুব বেশি সন্তোষজনক নয় বটে। তবে প্রস্তুতি ম্যাচে ১৪২ রানের ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দিয়েছেন সক্ষমতা। আর ব্যাটিং অর্ডারে দলটির প্রাণভোমরা শুভমান গিল। ভালো-মন্দ সবটাই নির্ভর করছে তাঁর উপর। ঋষাভ পান্তকে বড় ভূমিকা রাখতেই হবে। মিডল অর্ডারের সাফল্য নির্ভর করছে তার উপরও। সরফরাজ খানের প্রত্যাবর্তনটা স্মরণীয় হবে কিনা সেটি সময় বলবে। তবে এই সুযোগ নিশ্চয় হেলায় হারাতে চাইবেন না তিনি।

এবার আসা যাক বোলিং আক্রমণের দিকে। অলরাউন্ডার হিসেবে রবীন্দ্র জাদেজার সার্ভিস ভারত পাচ্ছেই। একই জায়গায় বল করে প্রতিপক্ষের ঘুম হারাম করতে সিদ্ধহস্ত তিনি। বিপদে ব্যাট হাতেও উদ্ধারকারী জাহাজ হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন। অন্যদিকে এক টেস্ট খেলেই মানাভ সুথার সাত উইকেট শিকার করে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন। এবার আসল প্রশ্নটা তিন নম্বর স্পিনার কি তবে কুলদ্বীপ যাদব? তাঁকে নিতে হলে স্যাক্রিফাইস করতে হবে এক ব্যাটার কিংবা এক পেসারকে।

এবার আসা যাক তিন স্পিনারের ফায়দা কী? গল অনেকটা চোরাবালির মতো উইকেট উপহার দেয়। স্পিনিং ট্র্যাক কিংবা ফ্ল্যাট উইকেট কোনোটাই না, আবার কখনও কখনও দুটোই। মূল সমস্যা এখানেই। যদি স্পিনিং ট্র্যাক হয় তিন স্পিনার ঠিক আছে। গল শুরুর দিকে ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি, সেক্ষেত্রে সেই হিসেবে মূল ভূমিকা পেসারদের। সফলতা পেতে হলে পেসারদের লম্বা সময় বোলিং করতে হবে।

এবার যদি দুই পেসার ভারত নেয় তবে অপশন হিসেবে মোহাম্মদ সিরাজ এবং প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা পছন্দের তালিকায় থাকবেন। সিরাজ নতুন বলের বোলার, পুরোনো বলে কৃষ্ণা। তবে দুজনকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য কেউ থাকছে না। আর কেউ যদি অফফর্মে থাকে তবে বিপাকেই পড়তে হবে ভারতকে। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কী হবে বা আদৌ হবে কিনা, এটা ভেবে যদি সিদ্ধান্ত নেয় ভারত, তবে জুয়া খেলার মতোই ব্যাপারটা দাঁড়াবে।

তবে উচিত কী? তিন পেসার এবং দুই স্পিনারের কম্বিনেশন। সেক্ষেত্রে জাদেজা এবং সুথারের উপর ভরসা রাখা উচিত। আর তিন পেসারের মধ্যে আকিব নবী, সিরাজ এবং কৃষ্ণাই হবেন উপযুক্ত নাম।

সব মিলিয়ে ভারতের সম্ভাব্য একাদশ দাঁড়াচ্ছেঃ লোকেশ রাহুল, যশ্বস্বী জয়সওয়াল, দেবদূত পাদ্দিকাল, শুভমান গিল, ঋষাভ পান্ত, সরফরাজ খান, রবীন্দ্র জাদেজা, মানাভ সুথার, আকিব নবী, মোহাম্মদ সিরাজ এবং প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link