টানটান উত্তেজনা, চোখে চোখ রেখে লড়ে যাওয়া, আর শেষটাতে সুপার ওভার। এশিয়া কাপের এবারের আসরে সবচেয়ে জমজমাট ম্যাচ দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সুপার ওভার জিতে নিয়ে শেষ হাসিটা হাসল ভারতই।
দুই দলের কারো জন্যই ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। তবে শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক বললেন শেষটাতে ভালো ফল নিয়েই ফিরতে চান। তাই তো টস জিতে ভারতকে আগে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে এতে যে খুব বেশি ফায়দা হলো তেমনটা নয়।
অভিষেক শর্মা আর শুভমান গিল যথারীতি ওপেনিংয়ে আসলেন। বন্ধু গিল ফিরে গেলেও অভিষেক নিজের স্বভাবজাত ইনিংস খেললেন। ফিফটি তুলে নিলেন, টানা তিন ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি, সাথে চোখ ধাধানো স্ট্রাইক রেটে তিনি যেন নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। পাওয়ার প্লে শেষে আজও ভারতের সংগ্রহ দাঁড়াল এক উইকেট হারিয়ে ৭১।

অভিষেক যখন ৩১ বলে ৬১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে সাজঘরের পথে হাঁটছেন, তখন দায়িত্ব বুঝে নিলেন তিলক ভর্মা। সাঞ্জু স্যামসনকে সাথে নিয়ে ভারতের রানের চাকা সচল রাখলেন। শেষপর্যন্ত ৩৯ রান করে স্যামসন ফিরলেও, অন্যপ্রান্তে ঠিকই অবিচল থাকেন তিলক। অপরাজিত থাকেন ৪৯ রানে । আর শেষটাতে অক্ষর প্যাটেলের ১৫ বলে ২১ রানের ইনিংসে ভর করে ভারত স্কোরবোর্ডে জমা করে ২০২ রান।
তবে শ্রীলঙ্কাও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়। ভারতের বিপক্ষে সমানে লড়াই চালাল চোখে চোখ রেখে, একেবারে হিসাব কষে। সাত রানের মাথায় কুশল মেন্ডিস বিদায় বললেও পাগলা ঘোড়ার মতো চলতে থাকে পাথুম নিশাঙ্কা আর কুশল পেরেরার ব্যাট। পাওয়ার প্লেতে লঙ্কানদের সংগ্রহ দাঁড়ায় এক উইকেট হারিয়ে ৭২ রান।
৩২ বলে ৫৮ রান করে পেরেরা ফিরলে ভেঙে যায় শ্রীলঙ্কার ১২৭ রানের জুটি। তবে অবিচল গতিতে চলতে থাকে নিশাঙ্কার ব্যাট। ভারতীয় বোলারদের নিয়ে বাউন্ডারি উৎসবে মেতে ওঠেন তিনি, তুলে নেন আসরের প্রথম সেঞ্চুরি। একা হাতেই টেনে নিয়ে যান দলকে, সাজঘরের পথে যখন ফিরছেন নামের পাশে ১০৭ রানের ঝলমলে এক নক। তখনও অবশ্য দলের প্রয়োজন পাঁচ বলে ১২ রান। দাসুন শানাকা সেই সমীকরণ নিয়ে এলেন এক বলে তিন রানের। শেষ বলে এলো দুই রান, অর্থাৎ ম্যাচ গড়াল সুপার ওভারে।।

তবে আর্শদীপের বিচক্ষণ বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কা সুপার ওভারে তুলল মাত্র দুই রান। তিন রানের লক্ষ্যমাত্রা প্রথম বলেই টপকে গেল ভারত, জিতে নিল সুপার ওভার।











