জাতীয় দলের দরজা কি এবার খুলছে রুবেলের?

জাতীয় দলে স্পিন বিভাগে জায়গা পাওয়া সহজ নয়। কিন্তু রুবেলের বর্তমান ফর্ম যদি এমনই থাকে, তাহলে প্রশ্নটা হয়তো আর ‘জাতীয় দলে সুযোগ পাবেন কি না’ নয়—প্রশ্নটা হতে পারে, ‘জাতীয় দলের দরজা খুলতে আর কতক্ষণ?’

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ এইচপি দলের হয়ে যেন নিজের নামটাই জোরালোভাবে জানান দিচ্ছেন মোহাম্মদ রুবেল। টপ এন্ড টি-টোয়েন্টির প্রথম দুই ম্যাচে ৭ উইকেট—আর তৃতীয় ম্যাচেও তাঁর ঝুলিতে যোগ হলো আরও ৪ উইকেট। প্রশ্ন তাই এখন একটাই, জাতীয় দলের দরজা খুলতে রুবেলের আর কতক্ষণ?

ভিক্টোরিয়া একাডেমির বিপক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন রুবেল। তাঁর চার শিকারই বোল্ড—আর সেখানেই সবচেয়ে পরিষ্কার হয়ে উঠেছে তাঁর মিস্ট্রি স্পিনের ভয়ংকর বৈচিত্র্য।

প্রথম উইকেটটি এসেছে ইনকাটারে। দ্বিতীয় শিকারে আর্ম বল, যা ব্যাটারের জন্য ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। তৃতীয় উইকেটে আরও বড় চমক—বলটি ব্যাটারের ধারণার বিপরীত দিকে টার্ন করেছে। বলের লাইনে ব্যাট চালিয়ে পুরোপুরি বিট হয়েছেন ব্যাটার, আর বল গিয়ে আঘাত করেছে স্টাম্পে।

চতুর্থ উইকেটটিও ইনকাটারে। অর্থাৎ চার উইকেট, চারটিই বোল্ড—আর প্রতিটি উইকেটেই রুবেলের রহস্যময় স্পিনের আলাদা গল্প।

চাইলে এই সংখ্যা পাঁচ ও হতে পারত। ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলেই রুবেলের বলে স্যাম হার্পারের ক্যাচ উঠেছিল। কিন্তু সেই ক্যাচটি হাতছাড়া হওয়ায় পাঁচ উইকেটের সম্ভাবনাটা আর বাস্তব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ১৫ রান, টি-টোয়েন্টিতে দারুণ এক বোলিং স্পেল।

তবে আজকের পারফরম্যান্স কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ২২ আগস্ট নেপাল ‘এ’-এর বিপক্ষে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন রুবেল। পরদিন হোবার্ট হারিকেনস একাডেমির বিপক্ষে ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে শিকার করেন ৩ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টানা তিন ম্যাচে ১১ উইকেট—রুবেলের ধারাবাহিকতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ এটাই।

মালয়েশিয়া সিরিজেও বল হাতে কার্যকর ছিলেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও উইকেট নেওয়ার ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন। অর্থাৎ জাতীয় দলের দরজায় তাঁর কড়া নাড়াটা শুধু অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি ম্যাচের ফল নয়, এর পেছনে আছে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে এইচপি পর্যন্ত ধারাবাহিক পারফরম্যান্স।

রুবেলের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর মিস্ট্রি স্পিন। একই ধরনের অ্যাকশন থেকে কখনো ইনকাটার, কখনো আর্ম বল, আবার কখনো ব্যাটারের প্রত্যাশার বিপরীত দিকে টার্ন—এই বৈচিত্র্যই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করছে।

এইচপি দলের লক্ষ্যই হচ্ছে জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত খেলোয়াড় তৈরি করা। আর অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুতেই রুবেল যেভাবে পারফর্ম করছেন, তাতে নির্বাচকদের নজরে আসার মতো রসদ তিনি এরই মধ্যে দিয়ে দিয়েছেন।

জাতীয় দলে স্পিন বিভাগে জায়গা পাওয়া সহজ নয়। কিন্তু রুবেলের বর্তমান ফর্ম যদি এমনই থাকে, তাহলে প্রশ্নটা হয়তো আর ‘জাতীয় দলে সুযোগ পাবেন কি না’ নয়—প্রশ্নটা হতে পারে, ‘জাতীয় দলের দরজা খুলতে আর কতক্ষণ?’

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link