পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক থেকে এবার নাম কাটা যাচ্ছে সালমান আলী আঘার। এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে নাস্তানুবাদ হওয়া, সেই সাথে ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থতায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের(পিসিবি) আস্থা হারিয়েছেন তিনি। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পড়তে পারে অভিজ্ঞ শাদাব খানের কাঁধে। তবে সালমানের জায়গায় শাদাবকে নিলে তা কতটুকু যৌক্তিক হবে পাকিস্তানের জন্য?
পাকিস্তান দলের নির্ভরযোগ্য এক নাম শাদাব খান। ইনজুরিতে পড়ে খেলা হয়নি এশিয়া কাপে। তবে পাকিস্তান ক্রিকেটের টালমাটাল অবস্থায় তাঁর দ্বারস্থ হতে যাচ্ছে বোর্ড।
বাবর আজমের নেতৃত্ব ছাড়ার পর থেকে পাকিস্তানের নেতৃত্বে এটা হতে যাচ্ছে চতুর্থ পরিবর্তন। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং সালমান আলী আঘা—এরা সবাই মাঝের সময়টাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আর এবার শাদাব খান সেই তালিকায় যোগ দিতে যাচ্ছেন।

সালমান আলী আঘার অধিনায়কত্বের পরিসংখ্যানকে সামগ্রিক অর্থে মন্দ বলার উপায় নেই। ৩০ ম্যাচে তাঁর জয়ের হার ৫৬.৬ শতাংশ, যা বাবর আজমের ৫৬.৭ শতাংশের প্রায় সমান। তবে পিসিবি পরিসংখ্যান নয়, চাইছে দীর্ঘমেয়াদী এক সমাধান। তারা এমন একজনকে খুঁজছে, যে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখবে দলকে, আধুনিক টি-টোয়েন্টির মেজাজে দলকে গড়ে তুলবে, বড় দলের বিপক্ষে সফলতার দেখা পাবে।
তবে এর কোনোটাই শাদাব খানের অধিনায়কত্বে আছে কি না তা নিয়ে আছে বড় রকমের সংশয়। অন্তত তাঁর পরিসংখ্যান তেমন আশাব্যঞ্জক নয়। মাত্র ৬ ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি, যেখানে জিতেছেন মাত্র দুটি ম্যাচ। জয়ের হার ৩৩.৩ শতাংশ, যা মোহাম্মদ রিজওয়ানের ৩৭.৫ শতাংশের থেকেও কম। যদি পিসিবি পুরনো অভিজ্ঞ অধিনায়ককেই ফিরিয়ে আনতে চায়, তাহলে রিজওয়ান বা বাবরের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় কেন নয়—এই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
শাদাবের পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে দেখা যায়, অধিনায়কত্ব নেওয়ার পর সেখানে ভাটা পড়েছে, বিশেষ করে বল হাতে। ছয় ম্যাচে রান করেছেন ১১৮, গড় ১৯.৬৬। তবে উইকেট নিয়েছেন মাত্র তিনটি, যা দলের জন্য বড় এক ধাক্কা। তাই এখানেও প্রশ্ন উঠে—অধিনায়কত্বে তাঁর ভূমিকা কি দলের জন্য সত্যিই সহায়ক হবে?

সবমিলিয়ে, শাদাব খানের অধিনায়কত্বে পাকিস্তানের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব কিনা তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বোঝা যাচ্ছে, পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য নতুন নেতৃত্বের সন্ধান করাই যুক্তিসঙ্গত। বর্তমান খেলোয়াড় এবং অধিনায়কদের রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পাকিস্তান যদি সত্যিই শক্তিশালী ও স্থায়ী নেতৃত্ব চায়, তাহলে হয়তো নতুন একজন খেলোয়াড়ের উপরই ভরসা করা উচিত।
Share via:











