মিডল অর্ডার নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে তো!

দাপটের সঙ্গে টেস্ট জয়ের পর এবার বাংলাদেশের দুয়ারে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ঘরের মাঠে লিটন দাসের দল যে ফেবারিট এ নিয়ে কোন সংশয় নেই, তবে দুশ্চিন্তা যে একেবারেই নেই তা কিন্তু না। মিডল অর্ডারটা যে এখনও স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে না।

দাপটের সঙ্গে টেস্ট জয়ের পর এবার বাংলাদেশের দুয়ারে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ঘরের মাঠে লিটন দাসের দল যে ফেবারিট এ নিয়ে কোন সংশয় নেই, তবে দুশ্চিন্তা যে একেবারেই নেই তা কিন্তু না। মিডল অর্ডারটা যে এখনও স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে না।

অনেকভাবে চেষ্টা করা হলেও এই পজিশনে ঠিকঠাক সমাধান মেলাতে পারছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। অবশ্য পারবেই বা কি করে, এখানে যে নেই কোন স্পেশালিস্ট ব্যাটার। একমাত্র তাওহীদ হৃদয়ের ঘাড়ে চেপেই চলছে সবকিছু। আর শূন্যস্থান পূরণে ফিনিশারদের উপরে পাঠিয়ে খোঁজা হচ্ছে সমাধান।

এই যেমন গত সিরিজের মিডল অর্ডারের দায়িত্বে ছিলেন তাওহীদ, জাকের আলী, শামীম হোসেন পাটোয়ারি। কোন কোন ম্যাচে নুরুল হাসান সোহানও ছিলেন। এবার পরিবর্তনের পথে হেঁটেছেন নির্বাচকরা। এই ভূমিকায় যোগ করা হয়েছে নতুন দুই নাম, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ব্যর্থতায় নাম কাটা গেছে শামীমের।

তবে প্রশ্নটা আবারও ওঠে, আদতে সমাধান হলো তো? অঙ্কনকে প্রপার মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবেই ডেকেছে বোর্ড। আগেভাগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সাইফউদ্দিন খেলবেন সাত নম্বরে। অর্থাৎ মিডল অর্ডারেই। এই সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক সেটা একটু বিচার করা যাক।

সম্প্রতি শেষ হওয়া রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্টে মিডল অর্ডারে ব্যাট করা অঙ্কন চার ইনিংসে রান করেছেন মোটে ৩৬, সাথে স্ট্রাইক রেট ছিল ৭৬.৫৯। একেবারেই যে ব্যর্থ হয়েছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ব্যর্থ হওয়ার পুরষ্কার স্বরূপই বোধহয় টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়েছেন তিনি। এমন ব্যর্থ একজনের উপর আন্তর্জাতিক মঞ্চে কতটা ভরসা করা যায়?

উত্তরটা পাশ কাটিয়ে রেখে সাইফউদ্দিনের দিকে একটু যাওয়া যাক। এ যাবৎকালে তিনি ফিনিশার হিসেবেই ব্যাট করেছেন, তবে এবার প্রমোশন হয়েছে তাঁর, প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর ভাষ্যমতে সাত নম্বরের জন্য তাকে বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ এখানেও তিনি পরীক্ষীত নাম নন।

সে যাইহোক, পরীক্ষার মঞ্চ হিসেবে এবারের মত ধরে নিয়ে প্রথম ম্যাচে কারা এই পজিশনের স্থান পাবেন সেটা নিয়ে আলোচনা করা যাক। তাওহীদ হৃদয়ের চার এবং সাইফউদ্দিনের সাত নম্বর ধরে নেওয়া যাক। পাঁচ আর ছয় নম্বর আসন ফাঁকা থাকে, এখানে ক্যান্ডিডেট তিনজন, অঙ্কন, সোহান আর জাকের।

এক্ষত্র ফর্মের বিবেচনায় নাম বাদ পড়তে পারেন জাকের। অর্থাৎ হৃদয়, অঙ্কন, সোহান এবং সাইফউদ্দিনই হতে পারেন সম্ভাব্য নাম। আরেকটা পন্থায় চাইলে ম্যানেজমেন্ট হাঁটতে পারে, সাইফ হাসানকে চারে, হৃদয় পাঁচে, সোহান অথবা জাকের ছয়ে, আর সাতে সাইফউদ্দিন। এখন দেখার প্রথম ম্যাচের পরিকল্পনা ম্যানেজমেন্ট কিভাবে করে!

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link