গৌতম গম্ভীরের কোচিং–যুগ শুরু হয়েছিল বড় প্রত্যাশা নিয়ে। ভারতীয় ক্রিকেটে অ্যাগ্রাসন, মানসিক দৃঢ়তা ও নতুন দিশা আনার প্রতিশ্রুতিই ছিল। কিন্তু সময় যত এগোচ্ছে, ফলাফল ততই উল্টো দিকে গড়াচ্ছে।
সীমিত ওভারে ভারত এগিয়ে গেলেও টেস্টের অবস্থা ছন্নছাড়া। একের পর এক পরাজয় যেন গম্ভীর–অধীনে ভারতীয় ক্রিকেটকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। ঐতিহাসিক কিছু হারের তালিকা এখন সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
গম্ভীর দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত যে ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সত্যিই নজিরবিহীন। ২৭ বছর পর শ্রীলঙ্কার কাছে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ হার, ৩৬ বছর পর নিউজিল্যান্ডের কাছে টেস্ট ম্যাচে হার—এমন ধাক্কাগুলো ভারতীয় ক্রিকেটে আগে দশকজুড়ে দেখা যায়নি।

আরও অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান হলো, ঘরের মাঠে টেস্টে ভারত অলআউট হয়েছে ৫০ রানের নিচে; যা আধুনিক ক্রিকেটে ভারতের শক্তি—ব্যাটিং গভীরতা—নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও বিবর্ণ স্মৃতি। ১২ বছর পর নিজেদের ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ হার, একই ব্যবধানে টানা দুটি টেস্ট সিরিজে হার, এবং এক দশকেরও বেশি সময় পর প্রতিপক্ষের কাছে হারানো বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি।
আরও এক হতাশাজনক অধ্যায়—৯০ বছরের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বার ৩৭০+ রানের লক্ষ্যও রক্ষা করতে পারেনি ভারত। কেবল তাই নয়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০ রানের নিচে টার্গেট তাড়া করতে ব্যর্থতা এসেছে ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বার।

ঘরের মাঠে ১২৪ রানের টার্গেট তাড়া করতে না পারাটাই যেন সব ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে এমন দুর্বল অবস্থায় ভারত আর কখনো পড়েনি। আর ২৫ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টেস্ট সিরিজ হার—ভারতীয় ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ার সর্বশেষ সাক্ষ্য।
এসব ফলাফলে গম্ভীরের কৌশল, দল নির্বাচন, পরিকল্পনা ও কাঠামোগত সিদ্ধান্তগুলো খুবই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমর্থকদের হতাশা যেমন বাড়ছে, বিশ্লেষকেরা তেমনি প্রশ্ন তুলছেন দলের দিকনির্দেশনা নিয়েও।
হ্যাঁ সীমিত ওভারে গম্ভীরের অধীনে সফল ভারত। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি কিংবা এশিয়া কাপের মত ট্রফি জিতেছে। সেটাকেই ঢাল বানাতে চাইলেন গম্ভীরের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লজ্জার পর সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘মনে রাখতে হবে আমার কোচিংয়েই ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছে, এশিয়া কাপ জিতেছে, আর ইংল্যান্ডে ড্র করেছে।’

তবে, গম্ভীরের শুকনো কথায় আর চিঁড়ে ভিজছে না। ভারতীয় ক্রিকেট এমন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে পরিসংখ্যান ও ফলাফল স্পষ্ট করে দিচ্ছে—কিছু একটা ঠিকভাবে কাজ করছে না। গম্ভীরের দায়িত্ব পালনের সময়কাল এখন তাই তীব্র পর্যবেক্ষণের নিচে। সামনে সময় আছে, কিন্তু সমালোচনার পাহাড় পেরিয়ে ভারতকে আবার জয়ের ধারায় ফেরানোই এখন তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।










