সময় এখন আরসিবির!

এখন অপেক্ষা করবে বাকিরা। কারণ অপূর্ণতার শহর থেকে উঠে আসা সেই দলটি এখন আর শুধু ট্রফি জিততে শেখেনি, তারা শিখেছে কীভাবে সাম্রাজ্য গড়তে হয়।

একটা দল ১৮ বছর ধরে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছে। দলটার সমর্থক ছিল, আবেগ ছিল, তারকার মেলা ছিল, শুধু ছিল না একটি ট্রফি। কত কিংবদন্তি এলেন, কত স্বপ্ন বুনলেন, কতবার হাত বাড়িয়েও ছুঁতে পারলেন না সোনালি সেই শিরোপা।

ক্রিস গেইলের ছক্কার ঝড়, এবি ডি ভিলিয়ার্সের অবিশ্বাস্য সব ইনিংস, আর বিরাট কোহলির অগণিত রানের পাহাড় সবই ছিল। তবুও ট্রফিটা যেন বারবার ফসকে যেত হাতের মুঠো থেকে। আফসোসের আগুন বুকে নিয়ে বিদায় বলতে হয়েছে গেইল-ডি ভিলিয়ার্সদের মতো মহাতারকাদের।

তারপর এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো আইপিএল শিরোপা ছুঁলো আরসিবি। মুছে গেল ‘অপয়া’ তকমা, ভেঙে গেল সব অভিশাপের দেয়াল। আর সেই এক ট্রফিই যেন বদলে দিল সবকিছু। আরসিবি শুরু করল রাজত্বের সূচনা।

দুই বছরের ব্যবধানে এখন আরসিবির ঝুলিতে দুটি আইপিএল ট্রফি। যে দলকে একসময় ট্রল করা হতো, আজ সেই দলকেই সবাই দেখছে নতুন সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে। যে সমর্থকেরা বছরের পর বছর শুধু বিশ্বাস আঁকড়ে ছিলেন, আজ তারাই উদযাপন করছেন স্বপ্নপূরণের উৎসব।

এটা কোনো রূপকথার সমাপ্তি নয়। এটা একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ১৮ বছর অপেক্ষা করেছে ব্যাঙ্গালুরু। এখন অপেক্ষা করবে বাকিরা। কারণ অপূর্ণতার শহর থেকে উঠে আসা সেই দলটি এখন আর শুধু ট্রফি জিততে শেখেনি, তারা শিখেছে কীভাবে সাম্রাজ্য গড়তে হয়। এটা তো সবে শুরু। এখন সময় আরসিবির।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link