ফাইনালের মঞ্চে বিরাট কোহলির আরও এক মাস্টারক্লাস। আরেকটা স্মরণীয় রাত। আরেকবার ক্রিকেট বিশ্ব দেখল, চেজ যদি হয় এক শিল্প, তবে তার সর্বকালের শ্রেষ্ঠ শিল্পীদের একজন এই বিরাট কোহলি।
স্কোরবোর্ডে লক্ষ্যটা খুব বড় নয়, আবার এত ছোটও নয় যে চোখ বন্ধ করে হেঁটে গিয়ে ছুঁয়ে ফেলা যাবে। এমন এক হিসাব মাথায় নিয়ে ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে অতি পরিচিত সেই অবয়ব, তাড়া করা যার নেশা।
লক্ষ্য যতই হোক, পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, তিনি যেন হিসাব কষে এগোন। কোথায় ঝুঁকি নিতে হবে, কোথায় সময় কাটাতে হবে, কোন বোলারকে আক্রমণ করতে হবে, সব যেন তাঁর মস্তিষ্কে আগে থেকেই লেখা থাকে।

গুজরাট টাইটান্স লক্ষ্য দিয়েছিল ১৫৬ রানের। আহমেদাবাদের উইকেটে এই রান কখনোই বিরাট কিছু না। আর স্বয়ং বিরাট কোহলি যখন একপাশের দায়িত্ব নেন, সেখানে তো কোনো সংশয় থাকে না।
প্রথম কোয়ালিফায়ারে ব্যর্থ হয়েছেন, একটা জেদ জমেছিল। যখনই হোঁচট খান, তখনই তো বুক ফুলিয়ে উঠে দাঁড়ান রাজা। তাই তো নিজের সেরাটা জমিয়ে রেখেছিলেন ফাইনালের জন্য। যার শুরুটা করলেন একেবারে বিধ্বংসী মেজাজে। কে বলবে এই কোহলি টি-টোয়েন্টি জামানার ব্যাটার নন? কে বলবে এই ফরম্যাটকে বিদায় বলেছেন অনেক আগেই?
এবারের আসরে পাঁচ নম্বর ফিফটি তুলেছেন রাজকীয় মেজাজে, মাত্র ২৫ বল খেলে। তবে কাজটা যে তখনও শেষ হয়ে যায়নি, তা ভালো করেই জানতেন তিনি। দলকে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা এনে দিতে হবে, এই পণ যে নামার আগেই করেছিলেন। তাই তো একেবারে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়লেন, খেললেন ৭৫ রানের এক মহাকাব্যিক নক।

এটা শুধু একটি ইনিংস নয়, ছিল রান তাড়ার এক পাঠশালা। নতুন প্রজন্মের ব্যাটাররা হয়তো আবারও নোটবুক খুলে দেখবে, কীভাবে ফাইনালের চাপকে নিজের শক্তিতে পরিণত করতে হয়। তাই তো রান তাড়ার অভিধান খুললে প্রথম পাতাতেই যে তাঁর নামটা লেখা থাকে।










